আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদেশি বিনিয়োগকারীর হুমকি: আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার সতর্কবার্তা

সময়: রবিবার, জুলাই ১৩, ২০২৫ ১২:০৪:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির বিদেশি প্রধান শেয়ারহোল্ডার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ হোল্ডিংস। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ব্যাংকে ৩৫০ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। চুক্তি অনুযায়ী পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না পেলে তারা বিনিয়োগ ফেরত চায়, অন্যথায় আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে।

২০২৪ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই অভিযোগ জানায় আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের চেয়ারম্যান জোসেফিন সিভারেতনাম। চিঠির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন-এর কাছেও।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালে তৎকালীন ওরিয়েন্টাল ব্যাংক (বর্তমান আইসিবি ইসলামী ব্যাংক)-এর ৫৩ শতাংশ শেয়ার উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে কিনে ব্যাংকে প্রবেশ করে আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দায়মুক্তির নিশ্চয়তা পাওয়ায় তারা বিপুল বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছিল।

কিন্তু পরবর্তীতে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের পুরোনো শেয়ারহোল্ডাররা একাধিক মামলা দায়ের করলে শেয়ার লেনদেন আটকে যায় এবং ব্যাংকের উপর থেকে গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ কার্যত চলে যায়। এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে, এর পরিবর্তে একজন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে নিয়োগ দেয়। এতে বিদেশি গ্রুপটির সিদ্ধান্তগ্রহণ ও কর্তৃত্ব কার্যত শূন্যে নেমে আসে বলে অভিযোগ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, বরং তাদের মনোনীত ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অনুমোদনও দেয়নি। এর ফলে ব্যাংকে মালিকানার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এবং নতুন কোনো কৌশলগত বিনিয়োগকারীর আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে না।

আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপের মতে, এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র চুক্তি লঙ্ঘন নয়, বরং দেশের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের জন্য নেতিবাচক বার্তা।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, “আইসিবি ফিন্যান্সিয়াল গ্রুপ সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও আগ্রহ নিয়েই বিনিয়োগ করেছে। এখন যদি আইনি সমাধানে রাষ্ট্রের সহায়তা লাগে, তবে সেটিই কাম্য।”

এদিকে, আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে একাধিক মামলা উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

Share
নিউজটি ১৮৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged