আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত না নিয়ে বিনিয়োগকারীদের বাঁচান

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২৭, ২০২৪ ১১:৩২:১৭ অপরাহ্ণ

সরকার পতনের পর দেশের সাধারণ জনতার মনোযোগ এখন বন্যার দিকে। আবার কারো মনোযোগ মামলার দিকে। ব্যাংক-ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদ ভেঙ্গে সবাই যার যার মতো গদি নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু দিনের পর দিন বিনিয়োগকারীরা কিভাবে বেঁচে আছে সে খবর কেউ রাখছে না। এমনিতেই শেয়ারের অতিরিক্ত দরপতনে টাকা আর টাকার জায়গায় নেই। তারওপর গুটিকয়েক কোম্পানির ফ্লোর প্রাইজ ও ৩% সর্বনিম্ন সার্কিট ব্রেকার দিয়ে যাও কিছুটা সেফ করার চেষ্টা করা হয়েছে সেটিও তুলে দেওয়ার জন্য এক শ্রেণীর মুনাফাখোর মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নিশ্চয়ই এমন কোন সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে বিনিয়োগকারীরা একেবারে পথে বসে যায়। বিএসইসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের শুরুতেই উচিত ছিল শেয়ারবাজারের সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠকে বসে কার্যকরী সিদ্ধান্ত নেওয়া। শুরুতেই খোঁচাখুঁচি না করে আগে বাজারকে একটি ভালো অবস্থানে নেওয়া দরকার ছিল।

পরবর্তীতে সঠিক তদন্ত করে একে একে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা যেতো। কিন্তু দেশের সব জায়গার ধরপাকড়ের সঙ্গে শেয়ারবাজারকেও গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। অথচ দেশের সব সেক্টর থেকে শেয়ারবাজার অত্যন্ত সেন্সিটিভ। সব পেশাজীবী ও রাজনৈতিক দলের সদস্যদের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে।

সরকার পতনের পর একদল মানুষ বিএসইসির সামনে মানববন্ধন করেছিল যাদের দাবি ছিল কমিশনের কর্মকর্তাদের পদত্যাগ। কিন্তু বাস্তব হলো, যারা মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছিল তারা কেউ প্রকৃত বিনিয়োগকারী ছিল না। কমিশনের ভেতর কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট বা গ্রুপিং রয়েছে। এক সিন্ডিকেট দল অপর সিন্ডিকেট দলকে তাড়ানোর জন্য টাকা খরচ করে ভাড়া করে মানুষ এনে এই বিক্ষোভ মানববন্ধন করিয়েছে।

অর্থাৎ বিএসইসির ভেতরে কর্মকর্তাদের সিন্ডিকেট চক্র গোটা পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের হাতে পুঁজিবাজার কতটুকু নিরাপদ তা সহজেই অনুমেয়।
ঠিক তেমনি শেয়ারবাজারে বড় বড় ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সিন্ডিকেট চক্র রয়েছে। এক পক্ষ চাইছে সরকার পতনের সুযোগ নিয়ে অন্য পক্ষকে পরাস্ত করতে। এতে ফলাফল কি দাঁড়াবে?

যারা শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির অভিযোগে এখন গা ঢেকে আছে তারা নিজেদেরই সেফ করবে নাকি মার্কেট নিয়ে চিন্তা করবে। আবার তাদের যখন সুসময় আসবে তখন পাল্টা আক্রমণ আসবে সেটাই স্বাভাবিক। এতে ফলাফল কি দাঁড়ালো?
পাটা-পুতার ঘষাঘষি মরিচের জান শেষ!

Share
নিউজটি ৩১৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged