আমানতকারীদের অর্থ ফেরাতে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক

সময়: সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬ ৫:০৫:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্যাংক রেজল্যুশন প্রক্রিয়ার আওতায় আনা চারটি সংকটাপন্ন নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআই) পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে অস্থায়ী প্রশাসক এবং সহযোগী প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (৯ আগস্ট) জারি করা এক কর্মচারী নির্দেশের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসব দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের মানবসম্পদ বিভাগ-১-এ সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব পালন করবেন।

যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক নিয়োগ

আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১১-এর পরিচালক আলাউদ্দীন হোসেন। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাইন্যান্স কোম্পানি রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ.কে.এম. গোলাম বহলুল এবং এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মাহবুবুর রহমানকে।

এফএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড: এ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসক করা হয়েছে ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-২-এর পরিচালক আবু সামা আতাউর রহমানকে। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ফরেন এক্সচেঞ্জ অপারেশন বিভাগ-১-এর অতিরিক্ত পরিচালক রোকসানা আক্তার এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বশির।

ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড: প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১০-এর পরিচালক সাদেকুর রহমান। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অতিরিক্ত পরিচালক সাদরিল আহমেদ এবং এসএমইডিপি-২ (এসএমইডিপি-২) প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক আল আমিনকে।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড: প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন। সহযোগী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সচিব বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফরিদ উদ্দিন আহমদ এবং ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-৫-এর অতিরিক্ত পরিচালক জহিরুল ইসলাম ভূঞাকে।

আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ায় গুরুত্ব

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সংকটাপন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা নিরসন এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে অস্থায়ী প্রশাসকরা দায়িত্ব পালন করবেন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ স্থগিত করে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনার কার্যক্রম পরিচালনা করবেন তারা।

নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালনের জন্য নিজ নিজ বিভাগ থেকে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় তারা ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।

পাঁচ এনবিএফআই অবসায়নের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল অবস্থানে থাকা কয়েকটি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রেজল্যুশন কাঠামোর আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—পিপলস লিজিং, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, আভিভা ফাইন্যান্স, এফএএস ফাইন্যান্স এবং ফারইস্ট ফাইন্যান্স—অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেয়।

ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬-এর আওতায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আর্থিকভাবে টেকসই নয় এমন প্রতিষ্ঠানকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্গঠন, নিয়ন্ত্রণ, অবসায়ন কিংবা সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিষ্পত্তির সুযোগ তৈরি করাই রেজল্যুশন কাঠামোর অন্যতম উদ্দেশ্য।

চার প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের চিত্র

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অবসায়নের জন্য চিহ্নিত পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ পাওয়া চার প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের হার অত্যন্ত বেশি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। একই সময়ে ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সের ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

অতিরিক্ত মাত্রার খেলাপি ঋণের কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

প্রশাসকদের দায়িত্ব কী

নতুন নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা, ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করবেন। তারা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান পরিচালনা কাঠামোর পরিবর্তে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সিদ্ধান্ত নেবেন।

অন্যদিকে সহযোগী প্রশাসকরা প্রশাসকদের কাজে সহায়তা করবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, সম্পদ, দায়, ঋণ এবং অন্যান্য কার্যক্রম পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তারা যুক্ত থাকবেন।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged