নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্রোকারেজ হাউজ কেএইচবি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। সংস্থাটির মুখপাত্র আবুল কালাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তদন্ত দল প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কোনো পরিচালনাগত বা নিয়মভঙ্গের ঘটনা আছে কিনা তা বিশদভাবে যাচাই করবে। প্রয়োজনে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসইসি সূত্রে জানা যায়, আগের এক পরিদর্শনে কেএইচবি সিকিউরিটিজের আর্থিক তথ্য-উপাত্তে বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে আসে। সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে কমিশন। কমিটি বিশেষভাবে যাচাই করবে প্রতিষ্ঠানটিতে অসুরক্ষিত ঋণ বিতরণ, অপ্রমাণিত বিনিয়োগ বা করপোরেট নথি দাখিলের নিয়ম লঙ্ঘনের মতো কোনো ঘটনা ঘটেছে কিনা। তদন্তের আদেশ ইতোমধ্যে কেএইচবি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, কেএইচবি সিকিউরিটিজ ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (আইএলএফএসএল) থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা ছাড়াই প্রায় ৮০ মিলিয়ন টাকা (৮ কোটি টাকা) অসুরক্ষিত ঋণ নিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, এই ধরনের ঋণ গ্রহণ আর্থিক নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক বিধানের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনায় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ তুলনামূলকভাবে কম নেওয়া হতো। তবে খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বে নতুন বিএসইসি এখন গ্রাহক ঘাটতি থাকা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, গত ১৬ নভেম্বর আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।


