নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারের স্বচ্ছতা রক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বড় ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম গোপন করার অভিযোগে ৬ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের নিরীক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫) অনুষ্ঠিত বিএসইসির ৯৭৩তম কমিশন সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত নিরীক্ষকরা তাদের ক্লায়েন্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে থাকা অনিয়ম ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করেছেন। ফলে বিনিয়োগকারীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন এবং শেয়ারবাজারে সঠিক তথ্য প্রতিফলিত হয়নি।
যেসব কোম্পানি ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিরীক্ষা অনিয়মে অভিযুক্ত তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো হলো—
-
সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড
-
রিংসাইন টেক্সটাইল লিমিটেড
-
আমান কটন ফাইব্রাস লিমিটেড
-
ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
এই চার প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা কাজে জড়িত যে ৬টি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেগুলো হলো—
-
এ হক অ্যান্ড কোং
-
আহমেদ অ্যান্ড আক্তার
-
মাহফেল হক অ্যান্ড কোং
-
আতা খান অ্যান্ড কোং
-
সিরাজ খান বসাক অ্যান্ড কোং
-
ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোং
কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা
বিএসইসি সংশ্লিষ্ট ৬ নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছে—কেন তাদের পাঁচ বছরের জন্য শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি, বিনিয়োগ স্কিম ও মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরীক্ষা ও অ্যাস্যুর্যান্স কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হবে না। এ বিষয়ে শুনানির জন্য তাদের তলবও করা হয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের প্রতিক্রিয়া
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বিএসইসির এ পদক্ষেপকে সময়োপযোগী ও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। একইসাথে এটি শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে।


