নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আর্থিক বাজারে এখন চলছে এক উল্টোপথের খেলা। একদিকে সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদ দ্রুত নেমে এসেছে ১০ শতাংশের ঘরে, অন্যদিকে ব্যাংকগুলো আমানতের ওপর দিচ্ছে আগের তুলনায় বেশি সুদ।
বাজারে তারল্য বাড়লেও অনেক ব্যাংক প্রত্যাশিত হারে আমানত সংগ্রহে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে কিছু ব্যাংক আস্থার সংকটে পড়ে উচ্চ সুদ অফার করেও পর্যাপ্ত আমানত তুলতে পারছে না। বর্তমানে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৩০টির বেশি ব্যাংক দুই অঙ্কের সুদে আমানত নিচ্ছে। কিছু বেসরকারি ব্যাংক আবার ১২ শতাংশের বেশি সুদ অফার করছে। তবে আর্থিক সংকটে থাকা কিছু ব্যাংকের সময়মতো অর্থ ফেরত না দেওয়ার ঘটনা আমানতকারীদের মধ্যে সতর্কতা তৈরি করেছে। ফলে অনেকেই নিরাপদ মনে করে সরকারি বন্ড ও ট্রেজারি বিলে অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য
বাংলাদেশ ব্যাংকের আগস্ট ২০২৫-এর পরিসংখ্যান বলছে—
-
এক বছরের বেশি মেয়াদি আমানত: গড়ে ৯.৭০% (জুলাইয়ে ছিল ৯.৬৮%)
-
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক: আগস্টে ৯.৪৪% (জুলাইয়ে ছিল ৯.৩৯%)
-
বিশেষায়িত ব্যাংক: ৮.৪৬% (জুলাইয়ে ছিল ৮.৪৮%)
-
বেসরকারি ব্যাংক: ৯.৯১% (জুলাইয়ে ছিল ৯.৮৯%)
-
বিদেশি ব্যাংক: ৭.২৩% (জুলাইয়ে ছিল ৭.০৮%)
অন্যদিকে, রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক ঋণের কারণে বাজারে অতিরিক্ত ডলারের জোগান তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত ১৭৪ কোটি ডলার কিনে প্রায় ২১,৫০০ কোটি টাকা বাজারে ছেড়েছে। ফলে ব্যাংকগুলো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেছে, আর অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরকারের পক্ষে সুদ কমানো সম্ভব হয়েছে।
বন্ড ও ট্রেজারি বিলের সুদহার পতন
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যে দেখা যায়—
-
৯১ দিনের বিল: জুনে ১১.৯৪% → আগস্টে ১০.১৩%
-
১৮২ দিনের বিল: জুনে ১১.৯৮% → আগস্টে ১০.৩২%
-
১ বছরের বিল: জুনে ১২.০১% → আগস্টে ১০.৩০%
-
২ বছরের বন্ড: জুনে ১২.২০% → আগস্টে ১০.১৪%
-
দীর্ঘমেয়াদি বন্ড: জুনে ১২.৪৪% → আগস্টে ১০.২১%
ফলে বিনিয়োগকারীরা দ্বিধায় পড়েছেন—নিরাপত্তার কারণে সরকারি বন্ডে থাকবেন, নাকি বেশি সুদের লোভে ঝুঁকি নিয়ে ব্যাংক আমানতে অর্থ রাখবেন।


