আইডিআরএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে জীবন বীমা কোম্পানিসমূহের চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীদের মতবিনিময়

ইউএমপি বাতিল ও বীমা এজেন্ট নিয়োগ প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবি

সময়: বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৪ ২:০৪:৩৪ অপরাহ্ণ

বিশেষ প্রতিবেদক: বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ)ইউএমপি(ইউনিফায়েড ম্যাসেজিং প্লাটফর্ম) বাতিল ও বীমা এজেন্ট নিয়োগ

প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। গতকাল আইডিআরএ’র নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম
আলমের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেশের জীবন বীমাখাতের কোম্পানিসমূহের চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহীদের পক্ষ থেকে এই আহ্বান জানানো হয়।

একইসঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বীমা দাবি পরিশোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে এ খাতের ইতিবাচক ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন
অংশগ্রহণকারীরা। সভায় দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) অনির্বাচিত কমিটি ভেঙে অন্তর্র্বতীকালীন কমিটি গঠন ও সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নেতৃত্ব নির্বাচনের আহ্বান জানান ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

এ সময় আজকে দেশের বীমা খাতে সৃষ্ট সংকটের জন্য আইডিআরএ’র ব্যর্থতাকে দায়ী করে বক্তব্য রাখেন তিনি। বিগত বছরগুলোতে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত দেড় দশকে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ হিসেবে আইডিআরএ’র ভুল পদক্ষেপ এবং আশ্রয়-প্রশ্রয়েই বীমা খাতে এসব ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে আইডিআরএ’র সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বীমা খাত সংস্কারে কর্তৃপক্ষের নেয়া চলমান পদক্ষেপ অব্যাহত রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান মুখ্য নির্বাহীদের সংগঠন বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের সভাপতি বিএম ইউসুফ আলী। ইউএমপি বাতিল ও বীমা এজেন্ট নিয়োগ প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবিসহ সভায় জীবন বীমা কোম্পানিসমূহের পক্ষে তিনটি বিষয়ে কথা বলেন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজিম। বীমা এজেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করার জন্য প্রবিধানমালা সংশোধনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বীমা এজেন্ট (নিয়োগ, নিবন্ধন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা-২০২১ বীমা আইন, ২০১০ এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কর্তৃপক্ষের নব নিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলমের সভাপতিত্বে সভায় কর্তৃপক্ষের সকল সদস্য, নির্বাহী পরিচালক, পরিচালক, উপ-পরিচালক, জীবন বীমা কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং জীবন বীমাখাতের কোম্পানিসমূহের চেয়ারম্যান ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সভার শুরুতেই ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাৎবরণকারীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন ও আহতদের সুস্থতা কামনা করা হয়।

সভায় জীবন বীমা কোম্পানিসমূহের মুখ্য নির্বাহীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম ইউসুফ আলী ও প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা জালালুল আজিম। চেয়ারম্যানদের পক্ষে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম , মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজামউদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বীমা খাতের প্রতিবন্ধকতা, চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করা এবং সেগুলো উত্তরণের উপায় খুঁজে বের করার দিকে গুরুত্ব দেয়া, বীমা সেক্টরের ইতিবাচক ভাবমূর্তি-আস্থা ফেরানো, দক্ষ জনবল তৈরিতে নজর দেওয়া, এজেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা, বীমা কোম্পানির সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বীমা খাতের অতীতের যে অর্জন নতুন চেয়াম্যানের নেতৃত্বে তা আরো বেগবান ও ফলপ্রসূ হবে। সেই সাথে বীমা কোম্পানিগুলো তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠে বীমা সেক্টরের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সমাপনী বক্তব্য রাখেন। যাদের প্রাণের বিনিময়ে নতুন বাংলাদেশ অর্জিত হয়েছে, তাদের স্মরণ করে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালনকারী ছাত্র-জনতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তিনি তাঁর বক্তব্য শুরু করেন।

প্রথমেই তিনি দেশের ব্যাপক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার সাথে বীমা সেক্টরের ইতিবাচক সংস্কারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের
দায়িত্ব-কর্তব্যের কথা তুলে ধরেন।

দেশের বীমা সেক্টরে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনা, সমস্যাগুলো সমাধান করে, অস্বচ্ছতা-অনীহাকে দূর করে বীমার পেনিট্রেশন ০.৪৯ থেকে
৪.০০ তে নিয়ে যাওয়ার জন্য ইউনিট প্রোফিটকে বিবেচনা না করে টোটাল প্রোফিটের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে বলে তিনি মত প্রদান করেন।
সেক্ষেত্রে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তা সম্ভব এবং বীমা সেক্টরের উন্নয়নে নিজের শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করবেন বলে নিশ্চয়তা দেন নতুন চেয়ারম্যান।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের এ ক্রান্তিকালীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব ।
জাতীয় স্বার্থে এ পরিবর্তনের প্রতিফলন বীমা খাতেও দেখতে চান তিনি। বীমা কোম্পানিগুলোর সাথে তিনি ভবিষ্যতেও মতবিনিময় চালিয়ে যাবেন, যাতে সকলের অংশগ্রহণে কাঙিক্ষত সফলতা অর্জন করা যায়।

Share
নিউজটি ৩৬৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged