. ইতিহাসের অন্যতম বড় লোকসান প্রকাশ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের

সময়: মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫ ৩:৩৩:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২৫ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। সংশোধিত হিসাব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে ব্যাংকটির লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৭৫.৮ বিলিয়ন টাকা বা প্রায় ৫৭ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, যা শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এর আগে একই সময়ের জন্য যে লোকসানের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল, সংশোধিত এই অঙ্ক তার তুলনায় বহুগুণ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনার পর ব্যাংকটি আর্থিক বিবরণী সংশোধন করতে বাধ্য হয়। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে কোনো একক ব্যাংকের ঘোষিত সবচেয়ে বড় লোকসান হতে পারে।

রোববার শেয়ারবাজারে জমা দেওয়া এক বিবৃতিতে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে তাদের শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৪৭৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যা গত বছরের একই সময়ে ঘোষিত মুনাফার সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

ব্যাংকটির সর্বশেষ আর্থিক ফলাফল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের নিট সম্পদ মূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এসব ব্যাংক বর্তমানে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই সংশোধিত হিসাব প্রকাশের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটির প্রকৃত আর্থিক অবস্থার বিষয়ে অন্ধকারে ছিলেন। এর আগে ব্যাংকটি নয় মাসে ৩৭.৫০ বিলিয়ন টাকা বা ৩ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা লোকসানের তথ্য দিয়েছিল। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর প্রকৃত আর্থিক চিত্র প্রকাশ পায়।

ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পাঠানো এক চিঠিতে প্রভিশন ঘাটতি সমন্বয় ছাড়াই আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতের জন্য দেওয়া ডেফারেল সুবিধা বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়, ২০২৫ অর্থবছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিক থেকে প্রভিশন সমন্বয় করেই আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক। এমনকি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ব্যাংকটি ৩.২৮ বিলিয়ন টাকা বা ৩২৮ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক এই বিশাল লোকসানের ফলে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য নেমে দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৪৬০ টাকা ১৮ পয়সায়।

ব্যাংকটির ক্রমবর্ধমান আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক গত মাসে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং একজন প্রশাসক নিয়োগ করে। পাশাপাশি, একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

এই একীভূতকরণ উদ্যোগে মোট পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক যুক্ত রয়েছে— ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক। এসব ব্যাংক একত্র করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ নামে একটি নতুন সত্তা গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য অনাদায়ী ঋণ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক গত ৫ নভেম্বর এসব ব্যাংকের বোর্ড বাতিল করে একীভূতকরণ তদারকির জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর সম্প্রতি জানিয়েছেন, এসব সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের মূলধনের বড় একটি অংশ বিদেশে পাচার হয়েছে। ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় একীভূতকরণ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর কোনো কার্যকর বিকল্প ছিল না।

Share
নিউজটি ৭০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged