ইসলামী ব্যাংকের ১০৯ কোটি টাকার ঋণ: দুই বছরেও বাস হাতে না পাওয়ায় উদ্বেগ

সময়: বুধবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৭:৩৫:৩২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দূরপাল্লার যাত্রী পরিবহনে একসময় আলোচিত-সমালোচিত এস আলম গ্রুপের বড় ব্যবসার সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে গুরুতর আর্থিক অনিশ্চয়তা। গ্রুপটি সংকটে পড়ার প্রায় এক বছর আগে, বিদ্যমান প্রায় ২০০টির বেশি বাসের বহরে আরও ১৩৪টি বিলাসবহুল হিনো বাস যোগ করার পরিকল্পনা নেয়। এই উদ্দেশ্যে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ওজি ট্রাভেলস লিমিটেড ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর নাভানা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের সঙ্গে ১০৯ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকার একটি ক্রয়চুক্তি করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাসগুলো সরবরাহের কথা থাকলেও দুই বছর পার হলেও একটি বাসও হাতে আসেনি।

এ ব্যর্থতার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ওপর। কারণ, ওজি ট্রাভেলস ও আফতাব অটোমোবাইলসের মধ্যে চুক্তির পুরো অর্থ বিনিয়োগ করেছিল ইসলামী ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখা। এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বড় পরিবর্তনের পর বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা আত্মগোপনে চলে যান এবং সড়কে তাদের পরিচালিত বাসের সংখ্যা শতকের নিচে নেমে আসে। এতে ব্যাংকের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর ১৩৪টি বাস ক্রয়ের জন্য ওজি ট্রাভেলসের অনুকূলে ১০৯ কোটির বেশি টাকার ঋণ অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১০ মার্চ থেকে ৮ জুলাইয়ের মধ্যে আফতাব অটোমোবাইলসের হিসাবের মাধ্যমে আট দফায় মোট ৮৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা ঋণ ছাড় করা হয়। কিন্তু বাস সরবরাহ না হওয়ায় এই অর্থ কার্যত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে ইসলামী ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালত-১-এ মামলা দায়ের করে। মামলাটি নথিভুক্ত হয়েছে ৫৮৪/২৫ নম্বরে। আদালতে দাখিল করা কাগজপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ আগস্ট পর্যন্ত ব্যাংকের মোট পাওনা দাঁড়িয়েছে ৮০ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ৭৬১ টাকা। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে ওজি ট্রাভেলস, চেয়ারম্যান গোফরানুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাকিম আলী সহ এস আলম পরিবারের একাধিক সদস্যকে। এছাড়া আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড এবং তার চার পরিচালককেও আসামি করা হয়েছে।

গত ৯ নভেম্বর আদালত নির্ধারিত করে ৬০ দিনের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধের নির্দেশ, তবে সময় অতিক্রান্ত হলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। এছাড়া ব্যাংক চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার অভিযোগে আরেকটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে, যার মামলা নম্বর ২৮৭৩। ব্যাংক অভিযোগ করেছে, ঋণগ্রহীতা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে বাস সরবরাহ না করে ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও খাতুনগঞ্জ করপোরেট শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, “যদি সময়মতো বাস সরবরাহ হতো, সেগুলো ব্যাংকের নামে রেজিস্ট্রেশন হতো এবং ঋণের বিপরীতে কোল্যাটারাল হিসেবে আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকত। কিন্তু বাস না পাওয়ায় পুরো বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।”

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged