ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ

সময়: মঙ্গলবার, জুলাই ১, ২০২৫ ১১:৫৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্যদের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।

সোমবার (৩০ জুন) বিএফআইইউ দেশের সকল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বরাবর একটি নির্দেশনা পাঠিয়ে তাদের ব্যক্তিগত ও মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দেয়। প্রাথমিকভাবে আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তবে প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

যাদের হিসাব জব্দ
বিএফআইইউর নির্দেশনায় যাদের হিসাব জব্দ করা হয়েছে, তারা হলেন—

মো. শওকত আলী চৌধুরী, চেয়ারম্যান, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড

তাসমিয়া আম্বারীন, স্ত্রী, ভাইস চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স

জারা নামরীন, মেয়ে, পরিচালক, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড

মো. জারান আলী চৌধুরী, ছেলে

এছাড়াও, তাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে।

লেনদেন সম্পূর্ণরূপে স্থগিত
বিএফআইইউ জানিয়েছে, জব্দকৃত হিসাবগুলো থেকে কোনো ধরনের টাকা উত্তোলন, স্থানান্তর বা লেনদেন করা যাবে না। হিসাবধারীদের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা পাঠিয়ে লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হিসাবসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে
জব্দকৃত প্রতিটি হিসাবের—

অ্যাকাউন্ট খোলার ফরম,

কেওয়াইসি (KYC) ডকুমেন্ট

লেনদেনের পূর্ণ বিবরণী

এই সব তথ্য ২ জুলাই ২০২৫ এর মধ্যে বিএফআইইউতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।

সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ
বিএফআইইউর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মো. শওকত আলী চৌধুরীর সঙ্গে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক বিশ্লেষণে এসব লেনদেনে অস্বাভাবিক অর্থ প্রবাহ ও লেনদেনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তাই এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিএফআইইউ এই কড়াকড়ি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি, স্বার্থসংঘাত ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠে আসছে। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএফআইইউ জোরালো তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে, যার আওতায় আসছে একের পর এক ব্যাংক, কোম্পানি ও ব্যক্তি।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সহায়ক হবে।

Share
নিউজটি ৩০৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged