যেসব কোম্পানির শেয়ার দর টানা কমছে সেগুলো নিয়ে উভয় সংকটে রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ধরে রাখবেন নাকি বিক্রি করবেন সে ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না তারা। অনেকে শেয়ার বিক্রির আদেশ দিলেও ক্রেতা না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই প্রতিনিয়ত লোকসান গুণে যাচ্ছেন। আবার শেয়ার কারসাজি ও অর্থ আত্মসাতের দায়ে যেসব অভিযুক্তদের ব্যাংক ও বিও হিসাব জব্দ করা হয়েছে তাদের দোসররা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে।
বাজারকে অস্থিতিশীল করতে একের পর এক শেয়ার বিক্রির চাপ সৃষ্টি করছে যার লোড নিচ্ছে না প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা। কারণ শাইনপুকুর সিরামিকস থেকে শুরু করে বেক্সিমকো গ্রুপের অন্যান্য কোম্পানির শেয়ার, ওরিয়ন গ্রুপের শেয়ার, সাবেক এমপি-মন্ত্রীদের টাচে থাকা কোম্পানির শেয়ারগুলোর কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। সকালে লেনদেন শুরুর আগেই ৩% ডাউনে বিপুল পরিমাণ শেয়ার আগেই বিক্রির জন্য বসিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু কপালগুণে যারা শেয়ার বিক্রি করতে পারেন তারাই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলছেন।
এভাবে চলতে থাকলে বেশিরভাগ শেয়ার দর এক সময় ১০ টাকার নিচে নেমে আসবে। তখন বড় বড় প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা কম দরে শেয়ার কিনে আবারও বাবল তৈরি করবেন। পরবর্তীতে ধসের নামে আবারও ফকির হবেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। এই যে কৃত্রিম বায়ার সংকট, এটা কে তৈরি করছে বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা কেন এতো লোভে পড়ে বিনিয়োগকারীদের পুনরায় নি:স্ব করার ধান্ধা করছে সে বিষয়ে বিএসইসির কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সরকার পতনের পর এ পর্যন্ত ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) কি ভূমিকা ছিল সে প্রশ্ন করতে হবে।
শুধু শুধু কমিটি গঠন আর তদন্তের নাম দিয়ে আঁইওয়াশ আগেও করা হয়েছে, লাভ হয়নি। আর আগের মতো প্রকৃত চিত্র বের না করে যদি আঁইওয়াশ করা হয় তাহলে বিএসইসির কর্তার চেয়ার প্রশ্নবিদ্ধই হয়ে থাকবে।
যেহেতু বর্তমান প্রেক্ষাপট আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভিন্ন। তাই পদক্ষেপ নিতে হবে যুগপোযোগী। বিনিয়োগকারীরা এখন যে ভয়ের মধ্যে রয়েছেন তাদের সেটা দূর করতে হবে। ভয় দূর করতে “সূচক ১০ হাজার হবে, ৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হবে” এসব মুখরোচক কথা না বলে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মুখের কথা এখন আর কেউ বিশ্বাস করে না।


