ঋণের অর্থ অপব্যবহার ও বাজার কারসাজির অভিযোগে বিকন ফার্মার বিরুদ্ধে তদন্ত

সময়: সোমবার, জানুয়ারি ৫, ২০২৬ ২:২৯:০২ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ ও রসায়ন খাতের কোম্পানি বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির বিরুদ্ধে ঋণ অনিয়ম, অর্থ পাচার এবং সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কমিশন।

বিএসইসি জানিয়েছে, গঠিত কমিটিকে আগামী ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট বিএফআইইউ-এর একটি গোপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস এবং বিকন গ্রুপের অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেনের তথ্য উঠে এসেছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বিএসইসির তদন্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিকন ফার্মা তাদের উৎপাদিত পণ্য ‘বিকন মেডিকেয়ার’ ব্যানারে বিক্রি করে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য মুনাফা থেকে বঞ্চিত করেছে। এতে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কোম্পানিটি থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্রুপভুক্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ঋণ প্রদান এবং নিজস্ব ঋণের অর্থ অন্য প্রতিষ্ঠানের দায় পরিশোধে ব্যবহারের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় এসেছে।

তদন্তের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ঋণের অর্থের ব্যবহার। অভিযোগ রয়েছে, বিকন মেডিকেয়ার লিমিটেডের নামে নেওয়া ঋণের অর্থ ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি ব্যাংকের ওভারড্রাফট সুবিধা থেকে নেওয়া অর্থ বাজারে কারসাজির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি।

বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমানকে প্রধান করে উপ-পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম এবং সহকারী পরিচালক বিনয় দাসকে নিয়ে গঠিত এই তিন সদস্যের কমিটি ইতোমধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় এই অনুসন্ধান পরিচালিত হচ্ছে।

কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই তদন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

Share
নিউজটি ২৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged