করোনাকালীন সময় থেকে বাংলাদেশে ডিজিটাল প্লাটফর্মের ব্যবহার পুরোপুরি শুরু হয়। কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম) অনুষ্ঠানও ডিজিটাল পদ্ধতিতে নিয়ে আসা হয়। করোনার প্রভাব কেটে যাওয়ার পর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের বিভিন্ন সময়ে সরাসরি এজিএম অনুষ্ঠানের চাহিদা তৈরি হলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে এখনো কোন বার্তা আসেনি। এদিকে এজিএমে ডিজিটাল প্লাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার ফলে কোম্পানিগুলো নিজেদের ইচ্ছেমতো যা ইচ্ছে তাই করে যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের নানা প্রশ্ন থাকলেও জবাবদিহিতার বাইরে থাকছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। একটা কোম্পানি কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে কিংবা বর্তমান কি পরিস্থিতিতে রয়েছে সে ব্যাপারে ম্যানেজমেন্টের কোনো দিকনির্দেশনা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।
হাতেগোনা কিছু কোম্পানি ছাড়া বাকিগুলো নিজেদের বিভিন্ন কর্মকান্ড সম্পর্কে তথ্য গোপন করে যাচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোম্পানিগুলোর এজিএম সারা দিনব্যাপী চললেও আমাদের দেশে যাচ্ছে তাই অবস্থা। জুম মিটিং শুরু হতে না হতেই এজিএম শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বড় বড় কোম্পানির পরিচালকদের নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে নানা খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনা করে নির্বাচন করা হলেও তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালক নির্বাচিত হয় কোনকিছু বিবেচনা না করে। অনলাইনে ভোটের ক্ষেত্রে দেখা যায়, হাত তোলা বা ইয়েস বলার মাধ্যমে ভোটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষ আদতে আছে কিনা- যে এই ভোট দিয়ে পরিচালক নির্বাচনের বৈধতা দিতে পারে, তা বোঝার সুযোগ নেই। এখানে মোট কতজন ভোট প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে, এটা গুরত্ব সহকারে প্রতিবেদনে তুলে ধরার মতো কেউ থাকে না বললেই চলে। তাই এজিএমের যে গুরুত্ব ছিল, অর্থাৎ শেয়ারহোল্ডারদের কোম্পানি সম্পর্কিত বিষয়গুলো জানার যে ব্যবস্থা ছিল, সেটি এই ডিজিটাল প্লাটফর্মে পাওয়া যাচ্ছে না।
তবে ডিজিটাল পদ্ধতি রেখে সশরীরে এজিএমে উপস্থিত হওয়ার নিয়ম (হাইব্রিড পদ্ধতি) প্রণয়ন করলেও তা কিছুদিন পর বাতিল করে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
মূলত: করোনাকালীন সময়ে এজিএম ইভেন্টটি হয়েছে নামে মাত্র। এ পদ্ধতিতে যারা ক্ষুদ্র শেয়ার মালিকানা ধারণ করেন, যাদের মাইনোরিটি শেয়ারহোল্ডার বলা হয়, তাদের অধিকার কোনোভাবেই রক্ষা করা যায় না। তাছাড়া পরিচালক পর্ষদের সঙ্গে সীমিত সময়ের মধ্যে কেবল হাত তুলে কিছু বলতে চাওয়ার মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের অনেক বিষয় জানার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে কোম্পানিগুলোর বর্তমান দেনা-পাওনার হিসাব ও ভবিষ্যৎ কোনদিকে এগোচ্ছে সে বিষয়ে কোন ধারণা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা।
ম্যানেজমেন্টের স্বার্থ রক্ষা করা, অন্য শেয়ারহোল্ডারদের প্রশ্ন করতে না দেয়া, শেয়ারহোল্ডারদের এজিএমে সশরীরে না থাকার কারণে কোম্পানিগুলো স্বচ্ছতা হারাচ্ছে। এক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় ঠিকভাবে কাজ করছে না। এতে এজিএম হয়ে উঠেছে এক শুভঙ্করের ফাঁকি। তাই কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আগের মতো সশরীরে উপস্থিতি হয়ে এজিএম অনুষ্ঠানের পদ্ধতি চালু করা অতীব জরুরি হয়ে পড়েছে।


