এসএমই প্রকল্পের অর্থ ট্রেজারি বন্ডে, মুনাফা দিয়ে সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক

সময়: শনিবার, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ ৩:৩৯:১৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে অর্থায়নের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি রিফাইন্যান্সিং প্রকল্পের তহবিল শিল্পখাতে ব্যয় না করে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে—সেই বিনিয়োগ থেকে অর্জিত মুনাফার একটি অংশ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তাব অনুমোদনের ঘটনা।

‘সেকেন্ড স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম-সাইজড এন্টারপ্রাইজ ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ নামে এই প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক–এর যৌথ অর্থায়নে পরিচালিত। প্রকল্পটির অধীনে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। লক্ষ্য ছিল ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত ১৫ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত খাতে অর্থ বিতরণ না করে প্রকল্পের একটি অংশ দীর্ঘ সময় অলস পড়ে থাকে এবং পরবর্তীতে তা সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। এই বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মুনাফা অর্জিত হয়। এর মধ্যে প্রায় ২৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক–এর একটি হিসাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট বিভাগের পরামর্শেই এই বিনিয়োগ করা হয়। পরে এ বিনিয়োগকে ‘সাফল্য’ হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্কিং ভিজিট’ শিরোনামে সুইজারল্যান্ড সফরের প্রস্তাব দেন তৎকালীন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এ লক্ষ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি অর্থ বিভাগে প্রজ্ঞাপন জারির আবেদনও পাঠানো হয়। তবে বর্তমানে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসে ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট জটিলতার কারণে সফরটি অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।

ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর মুনিরা ইসলাম বলেন, অলস তহবিল থেকে মুনাফা অর্জনের মাধ্যমে দক্ষতা প্রদর্শনের স্বীকৃতি হিসেবেই কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে সফর অনুমোদন করা হয়েছে। এতে সরকারের সরাসরি কোনো আর্থিক ব্যয় নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

তবে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দেশের চলমান অর্থনৈতিক চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংকট এবং কৃচ্ছ্রসাধন নীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিদেশ সফরের উদ্যোগ প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তারা মনে করছেন, প্রকল্পের মুনাফা উন্নয়ন কার্যক্রমে পুনর্বিনিয়োগ না করে বিদেশ ভ্রমণে ব্যয়ের প্রস্তাব নীতিগতভাবে বিতর্কিত।

উল্লেখ্য, গত ২৫ জুলাই অর্থ বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রকল্পের মুনাফা বা উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থে বিদেশ সফর, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

এসএমই খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য সামনে রেখে নেওয়া প্রকল্পের অর্থ ভিন্ন খাতে বিনিয়োগ এবং সেই মুনাফা থেকে বিদেশ সফরের প্রস্তাব এখন নীতিগত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

Share
নিউজটি ৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged