এসএস স্টিল ইস্যুতে একাধিক তথ্য তুলে ধরল ইস্টার্ন ব্যাংক

সময়: রবিবার, এপ্রিল ১২, ২০২৬ ১১:৪৬:৪৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এসএস স্টিল লিমিটেডকে ঘিরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড। ব্যাংকটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উপস্থাপিত বেশিরভাগ তথ্যই অসত্য, বিকৃত ও বিভ্রান্তিকর। এ কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইস্টার্ন ব্যাংকের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে এসএস স্টিল বিভিন্ন জামানত ও ব্যক্তিগত গ্যারান্টির বিপরীতে ব্যাংকটি থেকে ১০৮ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণ করে। তবে ঋণ নেওয়ার পর থেকেই কোম্পানিটি নিয়মিত কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়। বারবার তাগাদা ও আইনগত নোটিশ দেওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে ঋণ পরিশোধ না করায় ব্যাংকটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর এসএস স্টিলের চেয়ারম্যান জাভেদ ওপেনহাপেনকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়ায় ২০২৫ সালের ১৯ জানুয়ারি তাকে ও তার প্রতিষ্ঠানকে ইচ্ছাকৃত ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে ইস্টার্ন ব্যাংক।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এসএস স্টিলের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংকে আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংকের আপিল বোর্ড ইস্টার্ন ব্যাংকের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর ২১ জুলাই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এসএস স্টিলকে জানানো হয়।

ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক ২০২৪ সালের ২৮ নভেম্বর ঢাকার তৃতীয় অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে, যেখানে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত ১০৩ কোটি ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৪০৪ টাকা ৯ পয়সা দাবি করা হয়। মামলার প্রক্রিয়ায় ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এসএস স্টিলের চেয়ারম্যানের মালিকানাধীন বনানীর একটি বাড়ি ক্রোকের আবেদন করা হয়, যা শুনানি শেষে আদালত মঞ্জুর করে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৯ মে আদালত ইস্টার্ন ব্যাংকের পক্ষে রায় দেয় এবং উক্ত সম্পত্তি মামলার ডিক্রির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধ না করায় ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ব্যাংকটি আরও ১১২ কোটি ৪১ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৯ টাকা ৩২ পয়সা আদায়ের জন্য অর্থজারি মামলা দায়ের করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বিক্রয়ের জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তবে এসএস স্টিলের এক পরিচালক এই নিলাম চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। আদালত ৩০ নভেম্বর তিন মাসের জন্য নিলাম কার্যক্রম স্থগিত করে এবং ১২ মাসে চার কিস্তিতে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়।

কিন্তু আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে দাবি করেছে ইস্টার্ন ব্যাংক। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকটি রিটের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থগিতাদেশ বাতিলের জন্য আবেদন করেছে, যা বর্তমানে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

ইস্টার্ন ব্যাংক জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে এবং তারা বিধি-বিধান অনুসরণ করেই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged