এস আলম গ্রুপের আরও ৮০০ কোটি টাকার শেয়ার জব্দের নির্দেশ

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ২১, ২০২৫ ১:৫০:৪৩ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলায় আরও নতুন করে বড় আকারের সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এবার গ্রুপটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, তার পরিবার ও সহযোগীদের নামে থাকা ১০৫টি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানের মোট ৫১৩ কোটি ১৮ লাখ ২৩ হাজার ২৮৬টি শেয়ার জব্দের নির্দেশ এসেছে। এসব শেয়ারের বাজারমূল্য প্রায় ৮০০ কোটি ৩৭ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা বলে জানা গেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের প্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।

দুদকের আবেদনে আদালতের নির্দেশ
দুদকের উপপরিচালক তাহসিন মোনাবিল হক এই মামলায় শেয়ার জব্দের আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, এস আলম ও তার সহযোগীরা জব্দযোগ্য শেয়ারগুলো অন্যত্র হস্তান্তরের চেষ্টা করছিলেন, যা প্রতিরোধে আদালতের হস্তক্ষেপ জরুরি ছিল।
বিচারক আবেদনটি পর্যালোচনা করে এস আলম পরিবারের মালিকানাধীন সব সংশ্লিষ্ট শেয়ার অবিলম্বে জব্দের নির্দেশ দেন।

এর আগেও জব্দ হয়েছিল ব্যাংক হিসাব ও বিদেশি সম্পদ
এর আগে, ৯ জুলাই একই আদালত এস আলম গ্রুপ, তার পরিবার ও সহযোগীদের নামে থাকা ৫৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের নির্দেশ দেন। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ছিল ১১৩ কোটি ৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৬৮ টাকা, যা ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে সংরক্ষিত ছিল।

এরও আগে, ২৪ জুন একই আদালত এস আলম ও তার স্ত্রী ফারজানা পারভীনের মালিকানাধীন সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ ও জার্সি দ্বীপে থাকা বিদেশি সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন।

দুর্নীতির একই মামলায় এর আগে আদালত একাধিক দফায় এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন সম্পদ জব্দ করেছিলেন, যা এখন পর্যন্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ করপোরেট সম্পদ জব্দের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিস্তৃত তদন্তে বড় ধরনের অনিয়মের ইঙ্গিত
দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এস আলম গ্রুপের আর্থিক অনিয়ম, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও বিদেশে সম্পদ স্থানান্তর সংক্রান্ত মামলায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তাদের দাবি, কোম্পানির নামে এবং পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশে স্থানান্তরের প্রমাণ তারা পেয়েছেন, যা বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থার জন্য একটি বড় ঝুঁকি ও নজিরবিহীন দুর্নীতি চিত্র তুলে ধরছে।

দুদক সূত্রের মতে, শেয়ার ও ব্যাংক হিসাব জব্দের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের আর্থিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও বিদেশে অর্থ পাচার রোধ করা উদ্দেশ্য।

আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এস আলম গ্রুপের সম্পদ জব্দের এই নির্দেশ দেশের করপোরেট দুর্নীতি প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির। তবে তারা মনে করেন, তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা বজায় রাখতে দুদক ও আদালতের সমন্বিত তদারকি প্রয়োজন।

 

Share
নিউজটি ৮২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged