bangladesh bank

এস আলম গ্রুপ ও নাসা গ্রুপের প্রভাবিত ব্যাংকগুলো নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ

সময়: শনিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৫ ৫:৪৫:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে শরিয়া-ভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংককে একীভূতকরণের তালিকায় রাখা হয়েছে। গত তিন দিনের পৃথক বৈঠকের পর উঠে এসেছে ভিন্নমুখী চিত্র—ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি), গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক (জিআইবি) ও ইউনিয়ন ব্যাংক নীতিগতভাবে একীভূতকরণে সম্মতি দিলেও, এক্সিম ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল) আপত্তি জানিয়েছে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি শফিউজ্জামান জানান, ব্যাংকটি তাদের কার্যক্রম স্থিতিশীল করতে দুই বছরের সময় এবং একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে আট বছরের সময় চেয়ে আবেদন করেছে। এর আগে ব্যাংকের বর্তমান পরিচালক মেজর (অব.) মো. রেজাউল হাকসহ ১০ জন প্রতিষ্ঠাতা শেয়ারহোল্ডার চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছিলেন যেন এসআইবিএলকে অন্য দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত না করা হয়।

অন্যদিকে, এক্সিম ব্যাংক বুধবারের বৈঠকে একটি পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের কাছে আরও বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছে—বিশেষ করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত, খেলাপি ঋণ আদায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ এবং মূলধন ঘাটতি পূরণের বিষয়ে।

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, তার ব্যাংকের বর্তমান সংকট “বড় আকারের কেলেঙ্কারি ও ঋণ অনিয়মের” ফল। তিনি স্বীকার করেন, “এখানে কোনো ধরনের ব্যাংকিং কার্যক্রম হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নিয়ন্ত্রক হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে, এবং আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছি।”
ইউনিয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ফরিদউদ্দিন আহমেদও নিশ্চিত করেছেন যে তাদের ব্যাংক একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করবে না।

এই পাঁচ শরিয়া ব্যাংকের মধ্যে চারটি—এফএসআইবি, ইউনিয়ন, জিআইবি ও এসআইবিএল—দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, শেল কোম্পানির মাধ্যমে এসব ব্যাংক থেকে বিপুল ঋণ নেওয়া হয়েছিল। অপরদিকে, এক্সিম ব্যাংক বহু বছর ধরে নিয়ন্ত্রণ করছেন নাসা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নজরুল ইসলাম মজুমদার, যিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের সাবেক চেয়ারম্যানও।

গত বছরের আগস্টে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব ব্যাংকের পুরনো পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করা হয়। পরে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা সংস্থার ফরেনসিক অডিটে প্রকাশ পায় ব্যাংকগুলোর ভয়াবহ আর্থিক সংকট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী খেলাপি ঋণের অনুপাত ছিল—

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক (এফএসআইবি): ৯৬.৩৭%

ইউনিয়ন ব্যাংক: ৯৭.৮০%

গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক: ৯৫%

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক (এসআইবিএল): ৬২.৩০%

এক্সিম ব্যাংক: ৪৮.২০%

 

Share
নিউজটি ৯৮ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged