কঠোর মার্জিন বিধিমালা কার্যকরে বাজারে অস্থিরতা—বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে

সময়: বুধবার, নভেম্বর ১৯, ২০২৫ ১১:৫৯:০২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) জারি করা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হওয়ার পর থেকেই শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে। গত ৬ নভেম্বর গেজেট প্রকাশের পর থেকে বাজারে টানা নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়।

নতুন বিধিমালায় মার্জিন লোনের ওপর একাধিক কঠোর শর্ত যুক্ত হওয়ায় বিশেষত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরাই সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছেন। নিয়ম অনুযায়ী, মার্জিন সুবিধা পেতে হলে বিনিয়োগকারীর গত এক বছরে গড় বিনিয়োগ কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা হতে হবে। ফলে এর নিচে থাকা বিনিয়োগকারীরা নতুন করে মার্জিন ঋণ নেওয়ার সুযোগ হারাবেন।

এমনকি বিদ্যমান ঋণগ্রহীতাদেরও আগামী এক বছরের মধ্যে নিজেদের পোর্টফোলিওর মূল্য ওই সীমায় তুলতে হবে, নইলে ফোর্স সেলের ঝুঁকি তৈরি হবে।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, যেসব বিনিয়োগকারীর নিয়মিত আয়ের উৎস নেই—যেমন ছাত্র, গৃহিণী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা—তাঁরা মার্জিন ঋণের জন্য অযোগ্য। মার্জিন ফাইন্যান্সিং শুধুমাত্র শেয়ার ক্রয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে; ক্যাশ উত্তোলন বা অন্য কোনো খাতে ব্যয় পুরোপুরি নিষিদ্ধ।

পোর্টফোলিওর মূল্য ৫–১০ লাখ টাকা হলে ইকুইটির ৫০% (১:০.৫) হারে মার্জিন সুবিধা মিলবে এবং ১০ লাখ টাকার বেশি হলে সর্বোচ্চ ১:১ অনুপাতে মার্জিন লোন দেওয়া যাবে। এছাড়া বীমা কোম্পানির শেয়ারে মার্জিন লোনের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও, বিনিয়োগকারীর ইকুইটি নির্ধারিত স্তরের ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে গেলে মার্জিন কল বাধ্যতামূলক করা হবে। পোর্টফোলিওর মূল্য ৫০ শতাংশ কমে গেলে জোরপূর্বক শেয়ার বিক্রি করতে হবে।

মার্জিন ঋণের সুদ প্রতি ত্রৈমাসিকে নগদ বা শেয়ার বিক্রি করে পরিশোধ করতে হবে। কোন শেয়ার মার্জিনের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে তাও কঠোরভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে—যেসব কোম্পানির ন্যূনতম ৫০ কোটি টাকা ফ্রি-ফ্লোট মার্কেট ক্যাপ নেই বা যেগুলো আর্থিক সংকট, ব্যবসা স্থগিতাদেশ কিংবা যোগ্য নিরীক্ষা মতামতের আওতায় রয়েছে, সেসব শেয়ার মার্জিনের জন্য অযোগ্য।

নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশের পর বাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা গেলে ১২ নভেম্বর হাইকোর্ট নতুন মার্জিন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

যদিও আদালত বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে, এর মধ্যেই বাজারে আতঙ্ক এবং বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ফলে নতুন মার্জিন নিয়মগুলো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধরনের চাপ হিসেবে দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Share
নিউজটি ৮৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged