নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজার সম্প্রসারণ ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য কর ব্যবধানের পরিমাণ কত হওয়া উচিত—এ নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। মঙ্গলবার (০৮ জুলাই) বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় এই প্রসঙ্গে বিশদ আলোচনা হয়।
সভায় বক্তারা মনে করেন, তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ কর ব্যবধান থাকলে নতুন কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহী হবে না, যা বাজারের প্রবৃদ্ধিকে থামিয়ে দিতে পারে।
এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর স্পষ্টভাবে বলেন, “শুধু ৫ শতাংশ কর ব্যবধান রাখলে কোনো কোম্পানিই শেয়ারবাজারে আসবে না। সঠিক ভ্যালুয়েশন এবং অন্তত ১৫-২০ শতাংশ কর ব্যবধান থাকলে তবেই এটি কার্যকর হবে। পৃথিবীর কোথাও এমন কম ব্যবধান রেখে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির উৎসাহ দেওয়া যায় না—এটাই বাস্তবতা।”
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে শেয়ারবাজারের সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং ব্যাংক খাতের বর্তমান সংকটের বাস্তবতা তুলে ধরে বলেন, “এ ধরনের পরিস্থিতিতে শেয়ারবাজার ভালো করবে—এটি আশা করা কঠিন।” তবে তিনি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার শেয়ারবাজার উন্নয়নে, এবং নীতি সমন্বয় করতে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএসইসি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক চলছে। খুব শিগগিরই বিনিয়োগকারীরা এর সুফল দেখতে পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম শেয়ারবাজারে নতুন আইপিও না আসার কারণে উদ্বেগ জানান। তিনি বলেন, আইপিও আনার দায়িত্ব বিএসইসির নয়, বরং দেশে থাকা ৬৬টি মার্চেন্ট ব্যাংকের। গত ১৫ বছরে মাত্র ১৩৮টি কোম্পানি বাজারে আনা হয়েছে, যা তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পরিচালক উজমা চৌধুরী মুসলিমপ্রধান দেশে শরিয়াহভিত্তিক সুকুকের মতো আর্থিক পণ্যের চাহিদা উল্লেখ করে বলেন, বাজারের বৈচিত্র্য বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী আনতে এই ধরনের পণ্য আরও বেশি চালু করা জরুরি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএমবিএ সভাপতি মাজেদা খাতুন। উপস্থিত ছিলেন চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. সাঈদ কুতুব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ইস্তেকমাল হোসেন।
বক্তারা মনে করেন, কর নীতিতে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন ও বাজারমুখী সংস্কার ছাড়া শেয়ারবাজারের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি সম্ভব নয়।


