কারখানা কার্যক্রম নিয়ে ডমিনেজ স্টিলের ব্যাখা বনাম মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা

সময়: সোমবার, নভেম্বর ১৭, ২০২৫ ৭:৫০:০৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড তাদের কারখানা পরিচালনা ও ব্যবসায়িক কাঠামো নিয়ে সাম্প্রতিক গণমাধ্যমে আসা রিপোর্ট এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখা দিয়েছে। আশুলিয়া এবং নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত তাদের দুই কারখানা পরিদর্শনের পর কোম্পানিটি এই ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।

ব্যাখায় ডমিনেজ স্টিল জানায়, তারা একটি পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ ও প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান, যাদের মূল ব্যবসা প্রিফেব্রিকেটেড ইস্পাত কাঠামোর কাস্টমাইজড অংশ তৈরির ওপর ভিত্তি করে। কোম্পানির দাবি, তারা কোনো দৈনন্দিন ভোক্তা পণ্য উৎপাদন করে না এবং তাদের উৎপাদন মডেল নিয়মিত কারখানা চালুর প্রয়োজনীয়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং অর্ডার–ভিত্তিক ফেব্রিকেশন ও পেইন্টিং কাজই তাদের মূল কার্যক্রম।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করলেও বাস্তবে কোম্পানির দুই কারখানাই সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে বলে তারা শেয়ারহোল্ডারদের আশ্বস্ত করেছেন।

তবে মাঠ পর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন
কোম্পানির এই আনুষ্ঠানিক দাবি সত্ত্বেও ডিএসই কর্মকর্তাদের পরিদর্শনে দেখা গেছে—আশুলিয়ার কারখানায় কার্যক্রম চলমান থাকলেও নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত কারখানাটি বন্ধ। পরিদর্শনকালে সেখানে উৎপাদন বা জনবল উপস্থিতির কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি।

শুধু ডিএসই কর্মকর্তা নয়—স্থানীয় বাসিন্দারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পলাশের কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ পড়ে আছে এবং সেখানে কোনো কার্যক্রম দেখা যায় না। তবু কোম্পানির দাবি, এটি অর্ডার–নির্ভর শিল্প হওয়ায় প্রতিদিন কারখানা চালানোর প্রয়োজন হয় না এবং নির্দিষ্ট গ্রাহকের নকশা ও অর্ডার অনুযায়ীই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

বাজারে প্রশ্নের উদ্রেক
কোম্পানির বক্তব্য আর মাঠপর্যায়ের তথ্য বিপরীত হওয়ায় শেয়ারবাজারে ডমিনেজ স্টিলের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী ও বিশ্লেষক মনে করছেন—কারখানা পরিচালনা, উৎপাদন অবস্থা এবং আয়ের উৎস সম্পর্কে আরো বিস্তারিত প্রমাণ-সাপেক্ষ তথ্য প্রকাশ করা এখন কোম্পানির জন্য জরুরি হয়ে পড়েছে।

Share
নিউজটি ৭৭ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged