কেয়া কসমেটিক্সের অর্থ গরমিলে বিএসইসি ও এফআরসির তদন্ত শুরু

সময়: শনিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৫ ৭:০৪:৫৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: কেয়া কসমেটিক্সের রপ্তানি আয়ের বিপুল অঙ্কের গরমিলের ঘটনায় নতুন তদন্ত শুরু করেছে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি)। অভিযোগ রয়েছে, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কেয়া গ্রুপের রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যাংকিং চ্যানেলে জমা হয়নি।

এফআরসি জানিয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট করতে আগামী ২৬ আগস্ট চারটি ব্যাংকের এমডি, সংশ্লিষ্ট প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের পরিচালককে সংস্থার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কেয়া গ্রুপকে সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রপ্তানি আয়ের বিস্তারিত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ অনুযায়ী, গরমিলের তালিকায় রয়েছে চারটি ব্যাংক:

সাউথইস্ট ব্যাংক: ২০০৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জমা হয়নি ৩৯ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলার

পূবালী ব্যাংক: ২০০৭ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ২০ কোটি ১৯ লাখ ডলার

ন্যাশনাল ব্যাংক: ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৫ কোটি ৮৫ লাখ ডলার

স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: ২০০৮ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ৬৫ লাখ ডলার

সব মিলিয়ে এই চার ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ৬৬ কোটি ডলার বা প্রায় ৮ হাজার ৫২ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা জমা হয়নি।

এ বিষয়ে কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক পাঠান অভিযোগ করে বলেন,
“রপ্তানি আয়ের বিপুল অর্থ ব্যাংকগুলো জমা না দেওয়ায় আমাদের প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জন্য আমি অর্থ উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিএসইসি এবং এফআরসির কাছে তদন্তের আবেদন করেছি। ব্যাংকের এই ভুলের কারণেই আমরা খেলাপি তালিকায় পড়েছি।”

তবে ব্যাংকগুলোর বক্তব্য ভিন্ন। তারা দাবি করছে, কেয়া গ্রুপ দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ করেনি, ফলে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার অনাদায়ী ঋণ থাকায় খেলাপি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ইতোমধ্যেই একটি অডিট ফার্ম নিয়োগ করে তদন্ত শুরু করেছে। এফআরসি বিষয়টিকে “সর্বোচ্চ গুরুত্ব” দিয়ে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেছে, যা মূলধন বাজারের বড় একটি আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

 

Share
নিউজটি ১১১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged