নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এবং অবসায়নের প্রক্রিয়ায় থাকা নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর (এনবিএফআই) সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য বিশেষ ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংক-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এ সংক্রান্ত একগুচ্ছ সুপারিশ সম্বলিত চিঠি হস্তান্তর করেছে।
বিএসইসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করে কোনো প্রতিষ্ঠানকে শেয়ারবাজার থেকে তালিকাভুক্তি বাতিল বা ডিলিস্টিং করা উচিত নয়।
প্রাথমিকভাবে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়নের তালিকায় রাখা হলেও শুনানি শেষে প্রাইম ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স এবং বিআইএফসি-কে আর্থিক অবস্থার উন্নতির সুযোগ দিতে ৩ থেকে ৬ মাস সময় দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং দ্রুত লিকুইডেশন প্রক্রিয়ায় যাচ্ছে। আভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি সব প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।
বিএসইসি’র মুখপাত্র মো. আবুল কালাম চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষাই এখন কমিশনের অগ্রাধিকার।
বাজার নিয়ন্ত্রকের মতে, প্রচলিত লিকুইডেশন আইনের কঠোর প্রয়োগ এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত নাও হতে পারে। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠানের নিট সম্পদ মূল্য (এনএভি) ঋণাত্মক হলে অবসায়নের পর শেয়ারহোল্ডাররা কিছুই পান না। কিন্তু সংশ্লিষ্ট এনবিএফআইগুলোর ক্ষেত্রে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন বা ৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতে পারে।
কমিশনের যুক্তি, যদি আমানতকারীরা অর্থ ফেরত পান, তাহলে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের পুরোপুরি বঞ্চিত করা ন্যায্য হবে না। এ কারণে ১০ দফা সুপারিশে বলা হয়েছে, লিকুইডেশন শুরুর আগেই প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রদেয় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।
বিএসইসি আরও প্রস্তাব করেছে, যারা অর্থ আত্মসাতে জড়িত স্পন্সর-পরিচালক—তাদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। কেবল সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই ক্ষতিপূরণের আওতায় থাকবেন। ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে শেয়ারের ফেস ভ্যালু (১০ টাকা) অথবা বর্তমান বাজারদর—যেটি বেশি, সেই মূল্য পরিশোধের সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া পুরো লিকুইডেশন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)-এ ট্রেড বাতিল সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রদান এবং সময়মতো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন।
বিএসইসি সতর্ক করেছে, বিনিয়োগকারীদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের আস্থাহীনতা তৈরি হতে পারে।


