শেয়ারের দর অতিরিক্ত বৃদ্ধি বা কমে গেলে ডিএসইর পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। সেই নোটিশের জবাবে কোম্পানিগুলো গদবাধা উত্তর দিয়ে দেয় যে, দর বাড়া-কমার ক্ষেত্রে কোম্পানির কোন অপ্রকাশিত তথ্য নেই। বিগত বছরের একই চিঠি আর একই উত্তর দেখতে দেখতে বিনিয়োগকারীদের তা হাস্যরসে পরিণত করেছে।
শুরুতেই ডিএসইর চিঠির যে ভুল সেটি হল, তারা কোম্পানির কাছে জানতে চায় কোন অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কিনা। এখন কোম্পানির কাছে যদি অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য থেকেও থাকে তাহলেও তারা বলবে না।
কারণ এতে ইনসাইডার ট্রেডিং হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই কোম্পানিগুলো এমন একটি উত্তর লিখে দেয় যাতে ডিএসইও পরবর্তীতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে। আর সেটি হলো “সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কোন অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই”।
বছরের পর বছর এভাবেই খামখেয়ালিপনাভাবে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে একপ্রকার তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছে ডিএসই এবং কোম্পানি।
এদিকে এতদিন শেয়ার দর বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলেও দর কমার কারণ জানতে চাইত না ডিএসই। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর শেয়ার বাজারের মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার দর যখন একের পর এক কমছে তখন ডিএসইর পক্ষ থেকে দর কমার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ পাঠানো হয়। তার উত্তরে কোম্পানিগুলো আবারো একই গদ বাধা উত্তর লিখে দেয়। আর তা হল ” সাম্প্রতিক অস্বাভাবিক দর কমার ক্ষেত্রে কোম্পানির অপ্রকাশিত কোন মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই”। অর্থাৎ শেয়ারের দর বাড়ুক বা কমুক তাতে উত্তর একই আসবে।
কিন্তু এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া উচিত। বিনিয়োগকারীদের কাছে শতভাগ স্বচ্ছতা আনয়নের জন্য ডিএসই ও কোম্পানিগুলোকে দায়বদ্ধতার আওতায় আনতে হবে।
ডিএসইর নিজস্ব টিমকে নিজ উদ্যোগে শেয়ারের দর বৃদ্ধি বা কমে যাওয়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কোম্পানিকে শোকজ নোটিশ পাঠাবে। কোম্পানি যদি জেনেও না জানার ভান করে তাহলে কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
যদি ডিএসইর টিমটি দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে তাহলে সঠিক তথ্য তুলে আনতে পারবে। এতে ইনসাইডার ট্রেডিং হোক কিংবা শেয়ার কারসাজি হোক তা বের করা যাবে। কারণ কোম্পানির শেয়ার প্রাইস উঠা নামার ক্ষেত্রে কোম্পানির নিজস্ব লোকদের হাত খুব কমই দেখা যায়। যাই কিছু হয় সব কোন না কোন সিন্ডিকেট চক্রের মাধ্যমে হয়। এ বিষয়টি ডিএসইর জানা থাকলেও এতদিন বিষয়টি নিয়ে এতোদিন একরকম রসিকতা করে আসছে যা মোটেও কাম্য নয়।
তাই খামখেয়ালির কারণ দর্শানোর নোটিশ আর নয়। সময় যেভাবে বদলেছে, ডিএসই কেউ বদলাতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যমান শেয়ারবাজার আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাস।


