যখনই বাজারটা একটু মুখ উঠিয়ে তাকাতে চায় তখনই গুজব নামক ভয়ানক অস্ত্র প্রয়োগ করে সেই রাস্তাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দিনের পর দিন এই গুজবেই পঙ্গু হয়ে রয়েছে দেশের শেয়ারবাজার। সম্প্রতি শেয়ার দরে সর্বনিম্ন সীমা ৩ শতাংশ দেওয়ার পর বিনিয়োগকারীরা মোটামুটি একটা স্বস্তিতে ছিল এই ভেবে যে, দর কমলেও বেশি কমবে না।
আবার দর বৃদ্ধি পেলে পূর্বের লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু গেল কয়েকদিন বাজারে আবারও অস্থিরতা বিরাজ করছে। শেয়ার দরের সর্বনিম্ন সীমা সার্কিট ব্রেকার তুলে দেওয়া হচ্ছে- এমন গুজব ছড়িয়ে আবারও বিনিয়োগকারীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের সেল প্রেসার বেড়ে গেছে।
বাজারে যখন বিনিয়োগকারীরা বাই মুডে সক্রিয় হতে থাকে, তখনই একটি চিহ্নিত চক্র তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বাজারে নানা গুজব ছড়াতে থাকে। এরফর বাজার যখন আবারও পতনের ধারায় ধাবিত হয়, তখন তারা সেল করা শেয়ার আবার কিনে নেয়। এভাবেই দিনের পর দিন শেয়ারবাজার থেকে এক শ্রেণীর কুচক্রী মহল আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে।
অন্যদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা নিজেদের পুঁজি হারাচ্ছে। এতে ফান্ডামেন্টাল দেখে যতই বিনিয়োগ করা হোক না কেন-সামগ্রিক বাজারে অতিরিক্ত সেল প্রেসার থাকায় কেউ লাভবান হতে পারছেন না। লোকসান সমন্বয় করার জন্য কেউ কেউ নতুন বিনিয়োগ নিয়ে এসেছেন। আবার কেউ মার্জিন ঋণ নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
কিন্তু দিনশেষে সবাই ধরা খেয়ে হায় হায় করছেন। কেউ কেউ কারসাজি চক্রের সঙ্গে একত্রিত হয়ে কিছু লাভ করছেন না যে তা নয়। তারাই আবার নিজেদের পাতা ফাঁদে আটকে যাচ্ছেন। ফরচুন সুজ, এমারেল্ড ওয়েল, হামি ইন্ডাষ্ট্রিজ (পূর্বের ইমাম বাটন), সী পার্ল, ক্রিষ্টাল ইন্স্যুরেন্স ইত্যাদি কোম্পানিতে কারসাজি চক্রের সঙ্গে জড়িত হয়ে অনেকে আটকে গেছেন।
লোভে পড়ে বিনিয়োগ করলেও মূল হোতা তাদের ঘাড়ের ওপর শেয়ার পার্কিং করে কেটে পড়েছেন। শেয়ারবাজার এমন একটি জায়গা যেখানে কেউ কারও আপন নয়। সংঘবদ্ধ চক্র হয়ে একসঙ্গে কাজ করলেও দিনশেষে সবাই যার যার স্বার্থ হাসিল করে বেরিয়ে পড়ে।
তাই বিনিয়োগকারীদের একটি বিষয় খেয়াল রাখা উচিত যে, যখনই কেউ আপনাকে কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করতে বলবে তখনই সেখান থেকে কেটে পড়বেন। কারণ যে আপনাকে শেয়ার কিনতে বলছে সে দর বাড়িয়ে আপনাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্যই বলছে।
হয়তো দু’একদিন দর বৃদ্ধি দেখতে পাবেন। কিন্তু আরও বাড়বে সে লোভে যদি শেয়ার ধরে বসে থাকেন তাহলেই শেষ। আর সবচেয়ে বড় বিষয় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থান্বেষী মহলের গুজব থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে গুজবকারীরা যেকোন গুজব ছড়িয়ে তাদেরকে গায়েল করতে না পারে।


