editorial

বিএসইসিকে ব্যর্থ হওয়া যাবে না

গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক জরুরি

সময়: মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৪ ১০:১৮:৫১ অপরাহ্ণ

শেয়ারবাজারের ইতিহাসে কখনো বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সাংবাদিকদের তোপের মুখে পড়েছে-এমন কথা শোনা যায়নি। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে “তোপের মুখে বিএসইসির চেয়ারম্যান” এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ক’দিনের মাথায় এমন খবর আসবে কেন? বিএসইসির আগের চেয়ারম্যানগুলো যেভাবে দুর্নীতির মহড়া সাজিয়েছেন তখন কোন সাংবাদিকমহল বা সংস্থা বিএসইসিকে সরাসরি এভাবে এ্যাটাক করতে পারেনি। কিন্তু এখন কেন এমনটা হয়েছে?

বিএসইসি মিডিয়াবান্ধব হচ্ছে না এটা সুষ্পষ্ট। শেয়ারবাজার বিটের সাংবাদিকদের কেউ কেউ এতোদিন বিএসইসি থেকে বিশেষ কিছু সুবিধা নিতো- সেটা বন্ধ হওয়াতে এক প্রকার আক্রোশ তৈরি হতেই পারে। এটিও একটি কারণ হতে পারে। এছাড়া বিএসইসি দুর্নীতিবাজদের ধরতে যেভাবে চিরণী অভিযান চালাচ্ছে- তাতে এক শ্রেণীর চৌকস সাধু ভেতরে ভেতরে কলকাঠি নাড়তে পারেন। বিএসইসির বর্তমান কমিশনকে ব্যর্থ প্রমাণিত করতে পারলে তারা বেঁচে যান- এই উদ্দেশ্যেও কাজ করছে কেউ কেউ।

কিন্তু যেভাবে বিএসইসি জিরো টলারেন্সে কাজ করে যাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এই কমিশনকে সকল প্রকার চক্রান্ত অতিক্রম করে এগুতে হবে। কোনভাবেই কমিশনকে ব্যর্থ হওয়া যাবে না।

তবে দিনশেষে শেয়ারবাজারের গতিশীলতা রক্ষা করতে হবে। কারণ বর্তমানে সূচক বাড়ছে কিন্তু শেয়ার দর কমছে। দেশের শেয়ারবাজারে চিত্র যেন উল্টো রথে চলছে। এখানে সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে বাজার চিত্রে কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সাধারণত: সূচক বৃদ্ধির পেলে বেশিরভাগ শেয়ার দর বৃদ্ধি পায়। তবে ভলিউম ও শেয়ার দরের ওপর নির্ভর করে সূচকের বাড়া-কমা হতে পারে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ শেয়ার দর কমলেও সূচক বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই চিত্রটি বেশি একটা দেখা যায় না।

গেল কয়েকদিন ধরে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতন চলছে। অন্যদিকে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সূচক বাড়ছে কিন্তু শেয়ার দর বাড়ছে না- এমন চিত্র দেখে বিনিয়োগকারীদের এক ধরণের অস্থিরতা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। এই অস্থিরতা ও হতাশা কাটাতে বিএসইসিকে কাজ করতে হবে।

বিএসইসিকে একদিকে দুর্নীতিমুক্ত শেয়ারবাজার উপহার দিতে হবে, অন্যদিকে বিনিয়োগকারীরা যেন তাদের পূর্বের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারে সে পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যখনই এই দুটি কাজ বিএসইসি সফলভাবে শেষ করতে পারবে- তখনই নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাহবা বাহবা পেতে আর কোন বাধা থাকবে না। আর এই অবস্থা থেকে উত্তোরণে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক করতে হবে। নিয়মিত বড় বড় প্রতিষ্ঠান যারা মার্কেট মেকারের ভূমিকা পালন করে- তাদেরকে কাছে রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, বিএসইসি যতই আইন প্রণয়ন করুক বা কঠোর হোক না কেন- বাজার ভালো না থাকলে সব কর্মই বৃথা।

Share
নিউজটি ২০৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged