নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের ব্যাংক খাতে একের পর এক সংস্কার ও তারল্য সহায়তা সত্ত্বেও দুর্বল ব্যাংকগুলো ধুঁকছে। বড় অঙ্কের আমানত ফেরত পাওয়া এখনও অনেক গ্রাহকের কাছে দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি কিছু ব্যাংক মাসে মাত্র ৫ হাজার টাকা দেওয়ার সক্ষমতাও হারিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ উদ্যোগে ২০টি দুর্বল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ায়, মূলধন ঘাটতি এবং গ্রাহকের আমানত ফেরত দেওয়ার অক্ষমতা চরম সংকট তৈরি করেছে।
গত এক বছরে এস আলম গ্রুপের দখলদারিত্ব থেকে ব্যাংক খাতকে মুক্ত করা হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের মতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ ছাড়া সরকার ১৪টি দুর্বল ব্যাংকের পর্ষদ বিলুপ্ত, ৫টি ব্যাংক একীভূত এবং খেলাপি ঋণ ও জালিয়াতি দমনে একাধিক টাস্কফোর্স গঠন করেছে। একইসঙ্গে ব্যাংক রেজল্যুশন অ্যাক্টের আওতায় আরও ১০টি ব্যাংকের একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চলছে।
আইএমএফ-এর ৪.৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণের শর্ত মেনে ব্যাংক ঋণনীতি, সুদহার ও খেলাপি সংক্রান্ত নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। এতে ব্যবসায়ীরা নীতিগত পরিবর্তনের চাপে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন।
এ সময় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য উন্নত হয়েছে, গ্রস রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাস আয় পৌঁছেছে ৩,০৩২ কোটি ডলারে, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। কেবল জুলাই মাসেই রেমিট্যান্স এসেছে ২৪৭ কোটি ডলার।
দুর্নীতিবাজদের অর্থ ফেরাতে বাংলাদেশ সরকার ২০০টিরও বেশি দেশে চিঠি পাঠিয়েছে। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সম্পদ জব্দ হয়েছে। বেশ কয়েকটি পরিবার, বিশেষ করে সাইফুজ্জামান জাভেদ ও সালমান এফ রহমান সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে নন-লাইফ বীমা খাতে পরিস্থিতি আরও হতাশাজনক। বর্তমানে ৪৬টি নন-লাইফ বীমা প্রতিষ্ঠান দাবির মাত্র ৯ শতাংশ পরিশোধ করেছে, বাকি ৯০ শতাংশ অনিষ্পন্ন রয়ে গেছে। এ কারণে বীমা খাতে মানুষের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঋণ প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.১৩%, যা ২০২৫ সালের জুনে নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.৪০%। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমান সরকার এখনো পুরোপুরি আস্থা ফেরাতে সক্ষম হয়নি।


