দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতায় যে ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ করতে কতোদিন লাগবে সেটা নীতি নির্ধারণী মহল ভালো বলতে পারবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বেসরকারি কোম্পানিগুলোও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবমিলিয়ে গোটা দেশই ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। যার চরম নেতিবাচক প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়েছে।
পুঁজিবাজারের এই সংকটকালীন সময়ে বরাবরই ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ হাউজসহ বড় বড় হাউজগুলো সাপোর্ট দিয়ে থাকে। কিন্তু সাপোর্ট দিতে চাইলেও মাত্রাতিরিক্ত সেল প্রেসার তারা নিতে পারছে না। তবে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় থাকলে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হতো। এতো সেল প্রেসার আসার প্রধানত কয়েকটি কারণের মধ্যে একটি হচ্ছে মার্জিন ঋণ।
প্রতিষ্ঠানগুলো ফোর্সসেল করে নিজেদের পাওনা টাকা নিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে যাদের কম দরে শেয়ার কেনা রয়েছে কিংবা জরুরি অর্থের প্রয়োজন রয়েছে তারা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে প্রায় সবার মধ্যে কম-বেশি চাপা অস্থিরতা বিরাজ করছে। গতকালও লেনদেনের মাঝে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদের রাস্তায় নেমে আসার খবর ছড়িয়ে পড়লে অনেকের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা গেছে।
এ ছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। নিয়োগকারীরা অর্থনীতি ঘিরে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা দেখছেন। ফলে সতর্ক সবাই। এর প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে লেনদেনে। সার্কিট ব্রেকার নির্ধারিত সর্বনিম্ন দরসীমা ৩ শতাংশে বেঁধে দেওয়ার কারণে দ্রুত ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়ছে অনেক শেয়ার, যা পুরো বাজারে দর পতনের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এ অবস্থায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ নিয়ে হাল ধরার মতো বিনিয়োগকারীও নেই। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এভাবে প্রতিদিনই দর কমতে থাকলে ফ্লোর প্রাইস আরোপ করার কোন বিকল্প দেখছেন না বিনিয়োগকারীরা। তাই পুঁজিবাজার তথা বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরুরি পদক্ষেপ জরুরি।


