শেয়ার কারসাজিতে ইউসিবি

জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত জরুরি

সময়: মঙ্গলবার, অক্টোবর ১, ২০২৪ ১০:০৩:২৫ পূর্বাহ্ণ

শেয়ার কারসাজির ফাঁদে পড়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ খুঁইয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। তালিকাভুক্ত জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার কিনে ১০৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হলেও বর্তমানে এর মূল্য মাত্র ২৭ কোটি টাকা। জনগনের আমানতকে বিপদে ফেলে ব্যাংকটির কতিপয় কর্মকর্তা আবুল খায়ের হিরুর সঙ্গে যোগসাজশে ব্যক্তি স্বাথ উদ্ধার করেছেন কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সাধারণত ব্যাংক কর্মকর্তা বা পরিচালক শেয়ার কেনার সঙ্গে জড়িত থাকেন। এক্ষেত্রে তারা কারসাজি চক্রকে লাভবান হতে গোপন চুক্তির মাধ্যমে সুবিধা দিয়ে থাকে। এতে ব্যাংকের অর্থ আটকে যায় ও লোকসানে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত শেয়ারবাজার তারল্য হারায়। একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িত।’

কারসাজির কারণে যখন কোনো শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে, তখন কারসাজিকারীরা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে দেন। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বেশি দামে বেশি সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারে না। ফলে তখন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ডাম্পিং স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

জেনেক্স ইনফোসিসের শেয়ার কারসাজির ক্ষেত্রে ইউসিবি ব্যাংক ডাম্পিংয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে ব্যাংকটির কিছু লোক জড়িত থাকতে পারে, যারা কারসাজিকারীদের সুবিধা দেওয়ার জন্য ব্যাংকটিকে শেয়ার কিনতে বাধ্য করেছিল। এভাবে ব্যাংক, এনবিএফআই ও মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ অপব্যবহারের অনেক উদাহরণ আছে।

বিনিয়োগের সব সিদ্ধান্ত যথাযথ গবেষণার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে ইউসিবি ব্যাংক তা করেনি। কারণ যাচাইবাছাই করে শেয়ার কেনা হলে কেউ এত বেশি দামে ও এত বেশি শেয়ার কিনতে ব্যাংকটির ম্যানেজমেন্ট সমর্থন করতে পারে না। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে, কাউকে সুবিধা দিতে এগুলো কেনা হয়েছিল।

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূলত আমানতকারীদের অর্থ বিনিয়োগ করে থাকে। আমানতকারীরা তাদের বিশ্বাস করে অর্থ রাখে। তাই ব্যাংকগুলোর বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেই দায়িত্বের একটি অংশ হলো বিচক্ষণ বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নেওয়া ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা। মোট পোর্টফোলিও আকারের তুলনায় এই বিনিয়োগ বেশ বড়। তাই এখানে কিছু প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

সাধারণত একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা থেকে বোর্ডে এই ধরনের প্রস্তাব পাঠানো হয়। তার ওপর ভিত্তি করে বোর্ড হয় প্রস্তাবটি অনুমোদন করে বা প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ইউসিবির ক্ষেত্রে ব্যাংকিং রীতিনীতি লঙ্ঘিত হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনির প্রভাবে পরিচালনা পর্ষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দায় সারছে ব্যাংকটির ম্যানেজমেন্ট। তাই শেয়ার কারসাজির সঙ্গে ইউসিবি ব্যাংক কর্মকর্তারা জড়িত কিনা সে ব্যাপারে দ্রুত একটি তদন্ত করা প্রয়োজন।

Share
নিউজটি ৪৪৬ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged