editorial

ঋণ খেলাপিদের সুদ মওকুফ

জনগণের টাকায় তামাসা না করে কঠোর শাস্তি জরুরি

সময়: রবিবার, জুলাই ৭, ২০২৪ ১২:৫৭:১৩ অপরাহ্ণ

সাধারণত অর্থের নিরাপত্তার প্রথম সেক্টর হিসেবে ব্যাংককে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু দিনের পর দিন ব্যাংক সেক্টর তার আস্থার জায়গাটি ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের একজন গ্রাহক তার জমানো মাত্র ২ লাখ টাকা উত্তোলন করতে জুতার তলা ক্ষয় করেছেন। কারণ ব্যাংকে টাকা নেই। এখন ব্যাংকের টাকা গেল কোথায়- সে প্রশ্নের উত্তরে আসবে ঋণ খেলাপি। এই ঋণ খেলাপিদের জন্য আস্তে আস্তে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যাংক ছাড়া বেশিরভাগ আমানতকারী ব্যাংক সেক্টর থেকে আস্থা হারিয়েছেন। হলমার্ক কেলেঙ্কারি থেকে শুরু করে বিসমিল্লাহ গ্রুপ, এসআলম গ্রুপ ইত্যাদি নানা প্রভাবশালী মহল ব্যাংকগুলোকে ফকির বানিয়ে ফেলছে। এগুলো কাদের টাকা? নিশ্চয়ই জনগণের টাকা।

শেয়ারবাজারকে যেমন করে লুটপাটের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে নেওয়া হয়েছে। তেমনি সামগ্রিক অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে ব্যাংকগুলোকে খালি করা হচ্ছে। আর এসব দুর্নীতিবাজ, অর্থপাচারকারীদের কঠোর শাস্তির আওতায় না এনে উল্টো তাদের হুজুর হুজুর করে কোনমতে চালান ফিরে পেতে ব্যস্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। অর্থপাচার, দুর্নীতি ও ঋণখেলাপি চক্র রোধ করা না গেলে এটিই সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। বড় বড় ঋণ খেলাপিদের ঋণের সুদ মাফ করা হচ্ছে। ঋণ খেলাপিদের ঋণের সুদ মওকুফ করার অর্থই হচ্ছে তাদের দুর্নীতির আরও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। অন্যান্য কোম্পানিগুলো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ না করে সুদ মওকুফের আশায় বছরের পর বছর পার করার দিক নির্দেশনা দেওয়া।

দেশের অর্থনীতিবিদরা এ বিষয়ে সরকারকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন: সরকারি ব্যাংকগুলো যে ৫০ হাজার কোটি টাকা সুদ মওকুফ করেছে তা খেলাপি ঋণ হিসেবে গণ্য করা উচিৎ। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি ১০ শতাংশের কাছাকাছি। বাজেট বক্তব্যে মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে বললেও তা অর্জিত হবে না। মধ্যস্বত্বভোগীরা মজুত ও সরবরাহের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করায় খাদ্যাভাবে ৭৪ সালে বহু লোকের মৃত্যু হয়। তাই মজুত ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বাজেটে বিদেশ থেকে যে ৯৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে এটা মারাত্মক ক্ষতিকর অস্ত্র হতে পারে। সরকার দেশি-বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার জোর দেওয়া উচিৎ। ব্যাংক থেকে অধিক পরিমাণে ঋণ নিলে বিনিয়োগকারীরা ঋণ পাবে না, বিনিয়োগ আরও স্থবির হয়ে যাবে। অন্যদিকে সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে ঋণ নিলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে ও সামাজিক নিরাপত্তা খাত শক্তিশালী হবে।

Share
নিউজটি ৩০০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged