তলাবিহীন ঝুঁড়ি হলো ইসলামী ব্যাংক

টাকা উদ্ধারই মূল চ্যালেঞ্জ

সময়: মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০২৪ ১:২৩:১৩ অপরাহ্ণ

এস আলম গ্রুপ ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখল করার পর নামে-বেনামে ৭৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়ে গেছে। এখন সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংকটির বোর্ডেও অনেক পরিবর্তন আসছে। ইতিমধ্যে এসআলম গ্রুপের ৬ ডিএমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু এগুলো কোন সমাধান নয়। এক পক্ষ যাবে আরেক পক্ষ আসবে। তাতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে ভরসার জায়গা ইসলামী ব্যাংক আমানতকারীদের আস্থায় পরিণত হবে কিনা সে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে পরিবর্তন যার যার ক্ষমতা মতো যেমনি হোক। ব্যাংক থেকে যে টাকা বের হয়েছে তা উদ্ধার করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। খুব শিগগিরই ইসলামী ব্যাংকের নতুন পর্ষদ চলে আসবে। যদি আগের বোর্ড দায়িত্ব পায় তাহলে আবারও সৌদি ফান্ড এসে ব্যাংকটিকে সক্রিয় করতে পারবে বলে আশা জাগাচ্ছে।

তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, নামে-বেনামে এমনসব অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে ঋণ কেলেঙ্কারি হয়েছে তা উদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব। এতো হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করায় আমানতকারীরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। অনেকে ব্যাংক থেকে যার যার আমানত তুলে নিচ্ছেন। শেয়ারবাজারে ব্যাংকটির শেয়ার দরে এমন পতন হয়েছে যেন ব্যাংকটিতে দুর্ভিক্ষ লেগেছে। একদিকে আমানতকারী অন্যদিকে বিনিয়োগকারী; দুই দিকেই চলছে চরম আস্থা সংকট।

কি পরিমাণ জালিয়াতি করা হয়েছে তা সচেতন মানুষ শোনা মাত্রই চমকে উঠবে। এস আলম বা সাইফুল আলমের জামাতা ও এসআইবিএলের চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদ ইউনিটেক্স গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৫৫ কোটি টাকা নিয়েছে। শুধুমাত্র এক নাবিল গ্রুপেরই নামে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা যার বড় অঙ্কের সুবিধাভোগী এস আলম। এর বাইরে বেশির ভাগ ঋণ নেওয়া হয়েছে অস্তিত্বহীন, সাইনবোর্ডসর্বস্ব বিভিন্ন ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে। ঋণ আবেদনে দেওয়া জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর বা অন্যান্য ডকুমেন্টের বেশির ভাগই হচ্ছে ভুয়া।

ইসলামী ব্যাংকের মোট ঋণস্থিতি রয়েছে দেড় লাখ কোটি টাকা। মোট আমানত রয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৪ কোটি টাকা। এসব ঋণের মধ্যে এখন পর্যন্ত এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ৭৪ হাজার ৯৭২ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের অর্ধেক। সরাসরি এস আলম গ্রুপের সাত প্রতিষ্ঠানের নামে রয়েছে ১৪ হাজার ৪২৭ কোটি টাকা। এতো বিপুল পরিমাণ অর্থ কিভাবে উদ্ধার করা হবে তার পলিসি কেমন হবে সে সিদ্ধান্ত নিতে হবে দ্রুত। যদি দেশ থেকে দায়ী ব্যক্তিরা পালিয়ে যায় তাহলে সব শেষ। হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের মতো টাকা আত্মসাত করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আগেই তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কোথায় কোথায় তাদের অর্থ রয়েছে সেগুলো ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। তলাবিহনী ঝুঁড়ির অপবাদ থেকে বের হতে ইসলামী ব্যাংকের টাকা উদ্ধারই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share
নিউজটি ৩৫৯ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged