সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

টানা আট সপ্তাহের উত্থানে উজ্জ্বল শেয়ারবাজার

সময়: শনিবার, আগস্ট ২, ২০২৫ ১০:৩৫:২১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা আট সপ্তাহের ধারাবাহিক উত্থানে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়ে গেছে প্রায় ৬৫ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজারমুখী প্রবণতা জোরালো হয়েছে। গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে বড় ধরনের উত্থানের কারণে বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরে এসেছে, যদিও পুরো সপ্তাহজুড়ে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে ছিল বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান।

ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে মূল্য সূচকের পাশাপাশি বাজার মূলধনও বেড়েছে। সপ্তাহ শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১২ হাজার ২২৩ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৭ লাখ ৮ হাজার ৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে বাজার মূলধন বেড়েছে ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা বা দশমিক ৬০ শতাংশ।

দীর্ঘদিন পতনের পর এই উত্থান শেয়ারবাজারে নতুন করে আস্থা ফিরিয়েছে। ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর আগেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়। গত আট সপ্তাহে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে মোট ৮০৪ পয়েন্ট, যার মধ্যে গত সপ্তাহেই সূচকটি বেড়েছে ৫১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট বা দশমিক ৯৫ শতাংশ।

ডিএসই-৩০ সূচক, যেখানে বাছাই করা ভালো কোম্পানিগুলো অন্তর্ভুক্ত, গত সপ্তাহে বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫৮ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ১৮ শতাংশ। আগের সাত সপ্তাহে সূচকটি বেড়েছিল ৩৬০ পয়েন্ট, ফলে মোট আট সপ্তাহে ডিএসই-৩০ সূচকের উত্থান দাঁড়িয়েছে ৩৮৪ পয়েন্টে।

তবে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচকে কিছুটা মিশ্রতা দেখা গেছে। গত সপ্তাহে সূচকটি কমেছে ২ দশমিক ০৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১৮ শতাংশ। যদিও আগের সাত সপ্তাহে এই সূচক বেড়েছিল ১৬১ দশমিক ৩৩ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪০টির শেয়ারদাম বেড়েছে, আর ২২২টির কমেছে। অপরিবর্তিত ছিল ৩১টি কোম্পানির শেয়ারদাম। তবে সামগ্রিকভাবে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বাড়ার ফলে বাজারের সূচক এবং মূলধনে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

লেনদেনের দিক দিয়ে কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৩৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের গড় লেনদেন ৮৫৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার চেয়ে ২০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কম। শতাংশের হিসাবে লেনদেন কমেছে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংকের শেয়ারে। প্রতিদিন গড়ে ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়, যা মোট লেনদেনের ৫ দশমিক ২৯ শতাংশ। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক (৩০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা) এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (২৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা)।

লেনদেনের শীর্ষ দশে আরও ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, যমুনা ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ব্যাংক এশিয়া, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, রবি এবং উত্তরা ব্যাংক।

শেয়ারবাজার বিশ্লেষকদের মতে, মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এবং নীতিনির্ধারকদের কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে।

Share
নিউজটি ২২৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged