নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ মন্দার পর ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের সামুদ্রিক বীমা খাত, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়। ২০২৪ সালজুড়ে চলা তীব্র ডলার সংকটে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে এই খাত। তবে ২০২৫ সালের শুরু থেকে পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বদলাতে শুরু করেছে।
বিগত বছর ডলারের ঘাটতির কারণে ব্যাংকগুলো নতুন এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে না পারায় বাণিজ্য কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়। এই স্থবিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে সামুদ্রিক বীমা খাতে, যা সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর আয়ের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, অনেক কোম্পানির সামুদ্রিক বীমা প্রিমিয়াম আয় ৩৫-৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গিয়েছিল।
তবে ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ডলার সংকট অনেকটা কমে আসায় আমদানি-রপ্তানি পুনরায় গতি পায়, যার ফলস্বরূপ এলসি খোলার হারও বাড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সামুদ্রিক বীমা ব্যবসায় ফের চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মোট ব্যবসার প্রায় ৬০ শতাংশই সামুদ্রিক বীমা থেকে আসে, এবং বর্তমানে ওই ব্যবসায় ১৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ৪২টি সাধারণ বীমা কোম্পানির জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫ প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণেও এই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলেছে। উক্ত প্রান্তিকে ১৯টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, যদিও ২২টির কমেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা বেড়েছে ১৮.৮৯ শতাংশ, অপরদিকে দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের মুনাফা কমেছে ৭৯ শতাংশ।
বীমা খাত সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সামুদ্রিক বীমা ব্যবসার এই পুনরুদ্ধার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০২৫ সালেই কোম্পানিগুলো আগের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবে এবং সার্বিক আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে।


