নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ পণ্যে নতুন মাত্রা যোগ হলো। আজ (১৫ ডিসেম্বর) প্রথমবারের মতো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রেফারেন্স শেয়ারের সেকেন্ডারি বাজারে লেনদেন শুরু হচ্ছে, যা বাজারের কাঠামোকে আরও বৈচিত্র্যময় ও গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডিএসই সূত্র জানায়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনেটা পিএলসি কর্তৃক ইস্যুকৃত প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক লেনদেনের সূচনা হচ্ছে। এসব প্রেফারেন্স শেয়ারের লেনদেন হবে ডিএসইর অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) প্ল্যাটফর্মে। মূল ট্রেডিং বোর্ডে তালিকাভুক্ত নয়—এমন বিভিন্ন সিকিউরিটিজের লেনদেনের সুবিধা দিতে এই প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে।
প্রেফারেন্স শেয়ারের সেকেন্ডারি বাজার লেনদেন শুরুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন রেনেটা পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এস কায়সার কবির। এতে ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান ও পুঁজিবাজার উভয়ের জন্যই উদ্যোগটির তাৎপর্য স্পষ্টভাবে ফুটে উঠছে।
উল্লেখ্য, অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি) চালু করা হয় ২০২৩ সালের ৪ জানুয়ারি। এটি প্রচলিত ইক্যুইটি বাজারের বাইরে বিভিন্ন আর্থিক উপকরণের লেনদেনের জন্য একটি স্বয়ংক্রিয়, দক্ষ ও সাশ্রয়ী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এটিবিতে ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ, ডেট ইনস্ট্রুমেন্টস, ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড এবং বিকল্প বিনিয়োগ তহবিল তালিকাভুক্ত ও লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, যা ইস্যুকারী ও বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য বাড়তি নমনীয়তা সৃষ্টি করে। সেকেন্ডারি বাজারে প্রেফারেন্স শেয়ারের অন্তর্ভুক্তি এই প্ল্যাটফর্মের পরিধি আরও সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিএসই সূত্রে আরও জানা যায়, রেনেটা পিএলসি সম্পূর্ণরূপে রূপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে ৩২৫ কোটি টাকা সংগ্রহের জন্য চলতি বছরের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে অনুমোদন লাভ করে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সংগৃহীত এই অর্থ প্রধানত বিদ্যমান ঋণ পরিশোধে ব্যয় করা হবে, যা তাদের আর্থিক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
সম্পূর্ণরূপে রূপান্তরযোগ্য প্রেফারেন্স শেয়ার একটি হাইব্রিড আর্থিক উপকরণ, যেখানে ইক্যুইটি ও ডেট—উভয়ের বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে। এসব শেয়ারে সাধারণত লভ্যাংশ প্রদানে অগ্রাধিকার সুবিধা থাকে এবং নির্ধারিত সময় বা শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তা ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শেয়ারে রূপান্তর করা যায়।
বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রেনেটার প্রেফারেন্স শেয়ারগুলোর মোট মেয়াদ ছয় বছর। তৃতীয় বছর থেকে ইক্যুইটিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পরবর্তী চার বছরে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ করে শেয়ার রূপান্তরিত হবে।


