ডিএসই’র ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান ডিবিএ’র

সময়: রবিবার, জুলাই ২০, ২০২৫ ১২:৩৩:২৯ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম পুনরায় পর্যালোচনা ও সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ)। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ জুলাই) এই দাবি জানিয়ে একটি চিঠি শেয়ারবাজার উন্নয়ন কমিটির চেয়ারম্যান ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

চিঠিতে ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিমের ধারা ৪.১(বি)(আই) সংশোধনসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরেছে ডিবিএ। চিঠির অনুলিপি বিএসইসি চেয়ারম্যান এবং ডিএসই চেয়ারম্যানের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

বর্তমান বিধান অনুযায়ী ডিএসই পরিচালনা পর্ষদে ৭ জন স্বতন্ত্র পরিচালক, ৪ জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, ১ জন কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি এবং ১ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এক্স-অফিসিও) থাকেন। পর্ষদ চেয়ারম্যান মনোনীত হন কেবল স্বতন্ত্র পরিচালকদের মধ্য থেকে। ডিবিএ মনে করে, এই কাঠামো ভারসাম্যহীন ও শেয়ারবাজারের স্বার্থের পরিপন্থী।

ডিবিএ’র মতে, অতীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ ও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় পর্ষদ কার্যক্রমে জবাবদিহিতার অভাব দেখা দেয় এবং বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বিবেচনায় তিনটি মৌলিক সুপারিশ দিয়েছে ডিবিএ:

সুপারিশ ১: পর্ষদ কাঠামোর ভারসাম্য আনতে সদস্য সংখ্যা ১১ জনে নামিয়ে আনা
ডিবিএ প্রস্তাব করেছে, নতুন পর্ষদে ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক, ৪ জন শেয়ারহোল্ডার পরিচালক, ১ জন কৌশলগত বিনিয়োগকারী প্রতিনিধি এবং ১ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক থাকবেন। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন যেকোনো সদস্যের মধ্য থেকে, এক্স-অফিসিও ব্যতীত। এতে পর্ষদ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য ফিরে আসবে বলে মনে করে ডিবিএ।

সুপারিশ ২: ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার (CRO) রিপোর্টিং কর্তৃপক্ষ হিসেবে ক্ষমতায়ন
বর্তমানে CRO সরাসরি রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স কমিটির (RAC) কাছে রিপোর্ট করলেও, সিইও বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে কার্যক্রম রিপোর্ট করার বাধ্যবাধকতা নেই। এতে ব্যবস্থাপনার সঙ্গে রেগুলেটরি কার্যক্রমের সমন্বয়হীনতা দেখা দেয়। ডিবিএ মনে করে, CRO-এর রিপোর্টিং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে থাকা প্রয়োজন যাতে দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।

সুপারিশ ৩: ডিএসই’র অর্গানোগ্রাম সংশোধনের ক্ষমতা পর্ষদের হাতে দেওয়া
বর্তমান স্কিমে ডিএসই’র সাংগঠনিক কাঠামো নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, যা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন ও আধুনিকীকরণকে বাধাগ্রস্ত করে। ডিবিএ মনে করে, পরিবর্তিত বাস্তবতায় এই কাঠামো বোর্ডের বিবেচনায় পরিবর্তনযোগ্য হওয়া উচিত।

ডিবিএ’র মতে, এসব সংস্কার বাস্তবায়ন হলে ডিএসই আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বাজারবান্ধব হবে। একইসঙ্গে, বাজারের পেশাদারিত্ব এবং অংশগ্রহণকারীদের আস্থা ফিরে আসবে।

Share
নিউজটি ১১৪ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged