নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের শেয়ারবাজারে ডিজিটাল রূপান্তরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে আজ থেকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করতে যাচ্ছে ‘স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেম’ (এসএসএস)। এই সমন্বিত ই-প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো এখন থেকে তাদের সকল কর্পোরেট ও নিয়ন্ত্রক নথি অনলাইনে এক জায়গায় জমা দিতে পারবে—ফলে হার্ড কপি জমার পুরনো প্রক্রিয়ার অবসান ঘটবে।
বর্তমানে কোম্পানিগুলোকে আলাদাভাবে দুই এক্সচেঞ্জে সশরীরে হার্ড-কপি জমা দিতে হয় এবং বোর্ড সভা শেষে ৩০ মিনিটের মধ্যে ইমেল বা ফ্যাক্সে জরুরি আর্থিক তথ্য পাঠাতে হয়। এই দীর্ঘ ও জটিল পদ্ধতি সরিয়ে দিয়ে এসএসএস বাজার পরিচালনায় দ্রুততা, স্বচ্ছতা, তথ্যের সঠিকতা এবং ঝুঁকি হ্রাস নিশ্চিত করবে। এক্সচেঞ্জ দুটির লক্ষ্য—দ্রুত তথ্যপ্রবাহ ও উন্নত বিনিয়োগকারী অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করা।
ডিজিটাল এই প্ল্যাটফর্মে প্রতিটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানকে একটি করে ইউনিক ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তারা সব ধরনের নথি অনলাইনে আপলোড করতে পারবে। অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হলে এক্সচেঞ্জ সরাসরি সিস্টেম থেকেই কোম্পানির কাছে তা চাইবে।
ডিএসই ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুধু মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) দাখিলের জন্য আলাদা একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করেছিল। এবার সিএসই যুক্ত হওয়ায় প্রক্রিয়াটি আরও কেন্দ্রীয় ও কার্যকর রূপ পেল।
ডিএসই–র এক কর্মকর্তা জানান, নতুন এসএসএসের ফলে কোম্পানি ও এক্সচেঞ্জ উভয় পক্ষই অপ্রয়োজনীয় ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবে। পূর্বের ম্যানুয়াল সিস্টেমে ভুল তথ্য প্রবেশ, নথি হারানো ও সময়ক্ষেপণের ঝুঁকি ছিল বেশি—যা এই ডিজিটাল ব্যবস্থায় সম্পূর্ণভাবে দূর হবে। এছাড়া তথ্য দাখিলের অনিয়ম পর্যবেক্ষণও আরও সহজ হবে।
বিভিন্ন তালিকাভুক্ত কোম্পানির সচিবরা এই প্ল্যাটফর্মকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা জানান, আগের অনলাইন PSI ব্যবস্থায় ডিজিটাল ফাইল পাঠানোর পাশাপাশি আবারও হার্ড কপি জমা দিতে হতো—নতুন প্ল্যাটফর্ম সেই অতিরিক্ত ঝামেলা সরিয়ে দেবে।
গত আগস্টে ডিএসই, বিএসইসি–র কাছে চিঠি দিয়ে স্মার্ট সাবমিশন সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে চালু করার জন্য প্রস্তাব পাঠায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ছিল যে, তথ্যের ম্যানুয়াল ও ইমেল-নির্ভর দাখিল ভুল, বিলম্ব ও ডকুমেন্ট হারানোর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার এক্সচেঞ্জগুলো ইতোমধ্যেই স্বয়ংক্রিয়, ইস্যুকারী–নেতৃত্বাধীন ডকুমেন্ট দাখিল পদ্ধতিতে চলে গেছে।
প্রাথমিকভাবে এই সিস্টেমে মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (PSI) এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেট প্রকাশনা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াই যুক্ত করা হবে—পরবর্তীতে আরও সেকশন ধাপে ধাপে যুক্ত হবে বলেও জানা গেছে।


