নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড (আরডি ফুড)-এর আর্থিক প্রতিবেদনে গুরুতর অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র উঠে এসেছে। কোম্পানিটির সর্বশেষ অডিট রিপোর্টে দাবিহীন ডিভিডেন্ডের অর্থ ব্যাংকে সংরক্ষণ না করা, কর হিসাবের ভুল এবং ইপিএস ভুলভাবে উপস্থাপনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।
খান ওয়াহাব শফিক রহমান অ্যান্ড কোং, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস কর্তৃক প্রদত্ত ‘কোয়ালিফাইড ওপিনিয়ন’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরে ডেফার্ড ট্যাক্স হিসাব করার ক্ষেত্রে বিধি অনুযায়ী ২২.৫ শতাংশ হারের পরিবর্তে আগের ১৫ শতাংশ হার প্রয়োগ করেছে। এর ফলে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) প্রকৃত চিত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে নিরীক্ষক মত দিয়েছেন।
অডিট রিপোর্টে সবচেয়ে গুরুতর যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হলো দাবিহীন ডিভিডেন্ড সংক্রান্ত বড় ধরনের অসঙ্গতি। আরডি ফুডের বর্তমানে প্রায় ১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ডিভিডেন্ড হিসেবে প্রদেয় রয়েছে, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডে (সিএমএসএফ) জমা দেওয়ার কথা। অথচ নিরীক্ষা চলাকালে দেখা গেছে, কোম্পানিটির ব্যাংক হিসাবে মাত্র ১ লাখ ৯৪ হাজার টাকা রয়েছে।
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে আরও জানানো হয়েছে, ডিভিডেন্ডের জন্য আলাদা করে সংরক্ষিত থাকার কথা এমন প্রায় ১২ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যাংক হিসাবে নেই। বরং ওই অর্থ কোম্পানিটি নিয়মবহির্ভূতভাবে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয়ে ব্যবহার করেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
কোম্পানিটির দুর্বল আর্থিক অবস্থার প্রতিফলন ঘটেছে মুনাফার হিসাবেও। চলতি অর্থবছরে আরডি ফুডের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারকে এই মুনাফা পতনের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া, আইপিও সাবস্ক্রিপশন থেকে প্রাপ্ত ৫৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এখনো সমন্বয় না হওয়ায় কোম্পানির মূলধন কাঠামোর প্রকৃত চিত্রও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলে অডিট রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
নগদ প্রবাহ পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগের অর্থবছরে যেখানে নিট অপারেটিং ক্যাশ ফ্লো ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, সেখানে চলতি বছরে তা কমে মাত্র ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। নগদের এই তীব্র সংকটের কারণে ব্যাংক ঋণসহ অন্যান্য দায় পরিশোধে কোম্পানিটির সক্ষমতা নিয়েও গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিরীক্ষক।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠানের এমন আর্থিক বিশৃঙ্খলা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করেছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


