ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও ডিভিডেন্ড না দেওয়া কারসাজির অংশ

সময়: রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৪ ১০:০০:১৫ পূর্বাহ্ণ

ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে কিন্তু ভিডিডেন্ড প্রদান করেনি-এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় অপরাধ। বরং এই গর্হিত কাজটি কারসাজিরই অংশ। সাধারণত এজিএমের ৭ দিনের মধ্যে কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট বিও একাউন্টে ডিভিডেন্ড প্রদান করে। কিন্তু ইউনিয়ন ব্যাংকসহ বেশকিছু কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেও ডিভিডেন্ড প্রদানে গড়িমসি করছে। মাসের পর মাস পার হলেও কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড প্রদানে অনীহা নানা সন্দেহের সৃষ্টি করে।
নিয়ম হচ্ছে কোম্পানির রেকর্ড ডেট যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রত্যেক শেয়ার হোল্ডারের একাউন্টে জমা হবে। কোম্পানি তা ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার মাধ্যমে ঐ কোম্পানির শেয়ার হোল্ডারদের জানিয়ে দিবে।
কিন্তু সম্প্রতিক সময়ে এমনটি হচ্ছে না। এর মূল কারণ হচ্ছে কারসাজি। লক্ষ করলে দেখা যাবে, যারা এমনটি করেছে তাদের বেশির ভাগই দুর্বল এবং বন্ধ কোম্পানি। এই বন্ধ এবং দুর্বল কোম্পানিগুলোর যখন ডিভিডেন্ড দেয়ার সময় আসে তখন ঐ কারসাজি চক্র কোম্পানিকে আশ্বস্ত করে তারা নিজেদের পকেট থেকে ডিভিডেন্ডের টাকা দিবে।
কোম্পানির ডিভিডেন্ড দেয়ার ক্ষমতা না থাকার পরও ঐ কারসাজি চক্রের আশ্বাসে নামমাত্র ১ পয়সা থেকে ১০ পয়সা পর্যন্ত ডিভিডেন্ড দেয়। লক্ষ করলে দেখা যায়, ঐ কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে ডিরেক্টর যারা থাকেন তারা ঘোষণা দেন যে তারা ডিভিডেন্ড নিবেন না। সব কিছুই আসলে কারসাজির অংশ। পরবর্তীতে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে কারসাজি চক্র শেয়ার বিক্রি করে দেয়। কিন্তু সেই ডিভিডেন্ড দেয়ার বিষয়টি অসমাপ্তই থেকে যায়।
নতুন নিয়মানুযায়ী, ৮০ % ক্যাশ ডিভিডেন্ড প্রদান না করলে কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে যাবে। এই বিষয়টাও এক ধরণের অপকৌশল। একটি কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করার আগে ডিভিডেন্ড প্রদানের সক্ষমতা আগে বিবেচনা করে। যে পরিমাণ অর্থ ডিভিডেন্ড হিসেবে প্রদান করবে সেটিই তারা ঘোষণা করে। তাহলে শতভাগ না হয়ে ৮০% কেন? এখানেও বিশেষ ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলে অবশ্যই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১০০% দিতে হবে।
বিগত বিএসইসি’র শিবলী কমিশন আশ্রয় প্রশ্রয় না দিলে পানি এতো দূর গড়াতে পারতো না। আগেও যে এমন হয়নি তা না, তবে এখনকার মতন এতো বিস্তর অতীতে কখনই দেখা যায়নি।

কোন কোম্পানির শেয়ার কেনার সাথে সাথে আপনিও হয়ে যান সেই কোম্পানি একজন মালিক। এই কথাটা মনে হয় বর্তমান শেয়ার বাজারে অনেকেই জানে না বা ভুলে গেছে। তাই কোন শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন, সে কোম্পানির ব্যাকগ্রাউন্ডের মানুষগুলো কতটুকু স্বচ্ছ সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

Share
নিউজটি ৫৭০ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged