নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিভিডেন্ড মৌসুমে আশার বদলে হতাশার হাওয়া বইছে দেশের শেয়ারবাজারে। যেখানে সাধারণত ডিভিডেন্ড ঘোষণাকে ঘিরে বাজারে ইতিবাচক গতি দেখা যায়, সেখানে এবার উল্টো চিত্র লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দিনজুড়ে লেনদেনের ওঠানামার পর আবারও পতনে শেষ হয়েছে বাজার।
বাজার খোলার পর প্রাথমিকভাবে সূচকে কিছুটা উত্থান দেখা গেলেও শেষ বেলায় বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। অনেক বিনিয়োগকারী শেষ সময়ে শেয়ার বিক্রি করে পরদিন প্রাথমিক ঘন্টায় মুনাফা তোলার কৌশল নিচ্ছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই “নিটিং ট্রেডিং” প্রবণতা ডিভিডেন্ড মৌসুমে ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যার ফলে শেষ বেলায় সূচক কমলেও টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।
? অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের কৌশল ও বাজার নিয়ন্ত্রণ
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা সব সময় পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে লেনদেন করেন। তারা পতনের মধ্যেও মুনাফা তোলার সুযোগ তৈরি করেন। তবে বাজারে একটি প্রভাবশালী চক্রও সক্রিয় রয়েছে, যারা নিজেদের সুবিধা মতো বাজারের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে।
তাদের পরামর্শ— সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এখন আরও সতর্ক হতে হবে। কোনো কোম্পানির শেয়ার কেনার আগে এর আর্থিক অবস্থা, ডিভিডেন্ড ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করা জরুরি।
? সূচক ও লেনদেনের সারসংক্ষেপ
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২.৭২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,০৮৪.১২ পয়েন্টে।
অন্যদিকে ডিএসইএস সূচক ১.৫৪ পয়েন্ট কমে ১,০৭১.১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ১,৯৭৩.৫৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
আজ ডিএসইতে ৩৯৯টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৩৪টির দর বেড়েছে, ১৯৯টির কমেছে এবং ৬৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণেও দেখা গেছে ইতিবাচক পরিবর্তন। আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৪ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৩৩৭ কোটি টাকার তুলনায় ৫৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা বেশি।
?️ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) পরিস্থিতি
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) আজ লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয় ১৮৭টি প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ৫৭টির দর বেড়েছে, ১০৩টির দর কমেছে এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দিন শেষে সিএএসপিআই সূচক ৮৫.০৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৩৭০.৯৯ পয়েন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় সূচকের ধারাবাহিক পতন নির্দেশ করছে (আগেরদিন সূচক কমেছিল ৬৮.২৬ পয়েন্ট)।
? সার্বিক বিশ্লেষণ
ডিভিডেন্ড মৌসুমে বাজারে বিনিয়োগকারীদের আশার আলো এখনও দেখা যাচ্ছে না। যদিও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে, তবে সূচকের ধারাবাহিক পতন বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা নিটিংয়ের মাধ্যমে মুনাফা তুলছেন, কিন্তু নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য পরিস্থিতি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।


