নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিভিডেন্ড মৌসুম চললেও দেশের শেয়ারবাজারে টানা দরপতন অব্যাহত রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কয়েকটি হঠকারী সিদ্ধান্ত এবং একটি প্রভাবশালী মহলের কারসাজির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ফলস্বরূপ, সূচক নেমে এসেছে গত চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১.৯৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫,০১৯.০৭ পয়েন্টে, যা গত ৯ জুলাই ২০২৫-এর পর সর্বনিম্ন। ওই সময় সূচক ছিল ৫,০৩৫.৪৬ পয়েন্ট।
এদিন অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১০.৯০ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১,০৫৫.৭১ পয়েন্টে, এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৪.৭৪ পয়েন্ট কমে ১,৯৪৬.২৫ পয়েন্টে অবস্থান নেয়।
দিনের লেনদেন পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৫৬টির দর বেড়েছে, ২৭৭টির দর কমেছে, আর ৬৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
লেনদেনের পরিমাণও কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। আজ ডিএসইতে মোট ৪৫৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ৫১৮ কোটি ৬২ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ৬৫ কোটি ৫ লাখ টাকা কম।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) একই দিনে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যেখানে আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকার। অর্থাৎ, সিএসইতেও লেনদেন কমেছে প্রায় ৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
সিএসইতে মোট ১৯১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ড লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৪৪টির দর বেড়েছে, ১২০টির দর কমেছে, এবং ২৭টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
দিন শেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০.৮৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,৩১৭.২৬ পয়েন্টে। আগের দিন সূচক কমেছিল ৮৭.৯৭ পয়েন্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজারের ধারাবাহিক পতন বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। টেকনিক্যাল এবং নীতিগত সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা না থাকায় বাজারে আতঙ্ক আরও বাড়ছে বলে তারা মনে করছেন।


