ডিসেম্বরের মধ্যেই আমানত পরিশোধের আশ্বাস পেল পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকরা

সময়: বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০২৫ ২:৩১:৫১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমানতকারীদের টাকা নিশ্চিতভাবে পরিশোধে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের নবগঠিত পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভায় এ নির্দেশনা দেন গভর্নর। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

সভায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ রাশেদুল আমিন ও শেখ ফরিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন। একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসকরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের লক্ষ্যে এ পর্যন্ত নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালনা পর্ষদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। এরপর গভর্নর দ্রুত আইটি সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেন, যাতে আমানত ফেরতসহ ভবিষ্যৎ ব্যাংকিং কার্যক্রমে কোনো প্রযুক্তিগত জটিলতা সৃষ্টি না হয়।

সভায় নতুন ব্যাংকের জন্য একটি অভিন্ন ও সমন্বিত মানবসম্পদ নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে পদবি, গ্রেড ও পদোন্নতিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করে একক কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের জন্য统一 পদবি কাঠামো, স্বচ্ছ পদোন্নতি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত বেতন গ্রেড চালুর ওপর জোর দেন গভর্নর। এসব নীতিমালার বাস্তবায়ন বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তদারকি করবে বলে জানানো হয়।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, ডিসেম্বরের মধ্যেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকরা যেন পূর্বে ইস্যু করা চেক ব্যবহার করেই নির্বিঘ্নে টাকা উত্তোলন করতে পারেন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, আগামী জানুয়ারিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে উদ্বোধনের আগেই আমানতকারীরা তাদের জমাকৃত অর্থ ফেরত পাবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়। পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও গভর্নরের নির্দেশনার সঙ্গে একমত পোষণ করে জানান, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা নতুন ব্যাংকের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হবে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে কয়েকটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক ব্যাংক থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নেওয়ার ঘটনায় এসব ব্যাংক মারাত্মক আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচটি সংকটাপন্ন ব্যাংক একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠনের অনুমোদন দেয়।

একীভূত হওয়া ব্যাংকগুলো হলো— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ২০ হাজার কোটি টাকা এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা। ব্যাংকটির অনুমোদিত মূলধন ধরা হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এই পাঁচ ব্যাংকে বর্তমানে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট জমা রয়েছে ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই খেলাপি হয়ে গেছে।

সারা দেশে এসব ব্যাংকের রয়েছে ৭৬০টি শাখা, ৬৯৮টি উপশাখা, ৫১১টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট এবং ৯৭৫টি এটিএম বুথ। একীভূতকরণের পর একই এলাকায় অবস্থিত একাধিক শাখা এক বা দুটি শাখায় রূপান্তরের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিচালন ব্যয় কমাতে ইতোমধ্যে কর্মীদের বেতন–ভাতা ২০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয় হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলের সেনা কল্যাণ ভবন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল শাখায় একটি চলতি হিসাব খোলা হয়েছে। শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করেছিল।

Share
নিউজটি ৬১ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged