ঢাকার কারখানা বন্ধের প্রভাব: লোকসান ও কম ডিভিডেন্ডে বিএটি বাংলাদেশ

সময়: বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২, ২০২৬ ১০:২৮:৪০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ ঢাকার কারখানা বন্ধ ও স্থানান্তরের কারণে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে। কারখানা পুনর্গঠন ও স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় কোম্পানিটির প্রায় ৭১৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে বলে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিরীক্ষকের তথ্য অনুযায়ী, এই ব্যয়ের মধ্যে প্রায় ৩৭৫ কোটি টাকা স্থায়ী সম্পদের অবলোপনের কারণে ব্যয় হয়েছে, যা কোম্পানির আর্থিক ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। ২০২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে এই ব্যয়কে কোম্পানির কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

জানা গেছে, জমির ইজারা নবায়নের আবেদন সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দেওয়ার পর গত বছরের জুনে ঢাকার কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বিএটি বাংলাদেশ। একই সঙ্গে মহাখালী ডিওএইচএসে অবস্থিত প্রধান কার্যালয় সাভারের আশুলিয়ায় স্থানান্তর করা হয়।

কারখানা স্থানান্তরের পর সাভারে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে কোম্পানিটি প্রায় ২৯৭ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন দিয়েছে। ২০২৫ সালের বার্ষিক লভ্যাংশ ঘোষণার সময় কোম্পানি জানিয়েছে, গত বছরের জুলাই থেকে ঢাকার কারখানার যন্ত্রপাতি ও উৎপাদন সরঞ্জাম ধাপে ধাপে সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কোম্পানির তথ্যমতে, আকস্মিক কারখানা বন্ধ, স্থানান্তর এবং পুনর্গঠনের ফলে অপারেটিং মুনাফায় প্রায় ৭১৫ কোটি টাকার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটি ১৩৬ কোটি টাকার লোকসান গুনেছে, যা মূলত বিক্রি কমে যাওয়া এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ফল।

পুরো অর্থবছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৮১ পয়সা, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬৭ শতাংশ কম। মুনাফা হ্রাস পাওয়ায় পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের জন্য মাত্র ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে। উল্লেখ্য, এর আগের বছর ২০২৪ সালে কোম্পানিটি ৩০০ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল।

Share
নিউজটি ৩ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged