নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা চার কার্যদিবসে ১৮৬ পয়েন্ট পতনের পর অবশেষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে শেয়ারবাজার। গতকাল (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকেই সূচক ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ধারা শুরু হয়েছিল, আর সেই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসেও সূচক ও লেনদেনে ইতিবাচক ধারা দেখা গেছে। সূচকের পাশাপাশি টাকার অংকে লেনদেন বেড়েছে এবং অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বেড়েছে। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বিনিয়োগকারীরা।
বাজারে পতনের পেছনের কারণ
বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হয়ে ওঠায় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয়ভাবে লেনদেনে অংশ নিচ্ছিলেন এবং অনেকে লোকসান কাটিয়ে মুনাফা তুলতে শুরু করেছিলেন। ঠিক এমন সময় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) একটি বিতর্কিত চিঠি পাঠানো হয়। এ ঘটনায় বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বিনিয়োগকারী লেনদেন থেকে বিরত থাকেন, ফলে টানা পতনের কবলে পড়ে বাজার। তবে স্টক এক্সচেঞ্জ, বিএসইসি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে এনবিআর সেই অবস্থান থেকে সরে আসায় বাজারে আবারও ইতিবাচক ধারা ফিরে এসেছে।
দিনের লেনদেন পরিস্থিতি
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, বুধবার ডিএসইতে সূচক উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। দুপুরের পর ধীরে ধীরে সূচক ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে এবং দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সূচকের ধারাবাহিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। যদিও লেনদেনের শেষভাগে কিছুটা সূচক কমে যায়, তবুও দিনশেষে আগের দিনের তুলনায় সূচক বৃদ্ধির মধ্য দিয়েই লেনদেন শেষ হয়।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪৫.১৮ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৯২.৬৫ পয়েন্টে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসইএস ১৩.৪৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ১৬৫.৫০ পয়েন্ট, আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৮.৯৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ২ হাজার ৯১.২৪ পয়েন্টে।
অংশগ্রহণকারী কোম্পানি ও লেনদেন
আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৮৯টির দর বেড়েছে, ৬০টির দর কমেছে এবং ৪৮টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
লেনদেনের দিক থেকে আজ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ডিএসইতে মোট ৫৭৬ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬৭ কোটি ৫৯ লাখ টাকার চেয়ে ১০৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা বেশি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের অবস্থা
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। আজ সিএসইতে মোট ১০ কোটি ১৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগেরদিনের ১২ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেয়ে কম।
আজ সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৮ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৬টির দর বেড়েছে, ৮১টির দর কমেছে এবং ১১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। দিনশেষে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৫৫.৩৯ পয়েন্টে, যেখানে আগেরদিন সূচক কমেছিল ৫৩.০২ পয়েন্ট।
সারসংক্ষেপ
সব মিলিয়ে টানা পতনের পর বাজারে সূচক ও লেনদেন বৃদ্ধির ফলে নতুন করে আশাবাদী হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এনবিআরের বিতর্কিত অবস্থান প্রত্যাহার এবং বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ ফিরতে শুরু করায় অনেকে মনে করছেন, সামনের দিনগুলোতে শেয়ারবাজারে আরও স্থিতিশীলতা আসতে পারে।


