টানা ৫ কার্যদিবসের দরপতনে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা অসহনীয় ভারি হচ্ছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নবগঠিত কমিশন বাজারকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে কমিশন গঠনের শুরুটা ভালো হলেও দিন দিন তার গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছে।
শেয়ারবাজারের বড় বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে বসে রয়েছেন। যেহেতু শেয়ারবাজারের অনিয়ম ও দুর্নীতিরোধে নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্ত কার্যক্রম চলছে, তাই সবাই যার যার পূর্বের হিসেব নিয়ে ব্যস্ত রয়েছে। কারণ ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী প্রায় সবাই কম বেশি কোন না কোন শেয়ারে প্রাইস মেকিংয়ে ভূমিকা রাখে। বিএসইসির তদন্ত রিপোর্টে আবার কেউ ফেঁসে যায় কিনা সেই আতঙ্কে শেয়ার কেনা-বেচা থেকে দূরে রয়েছে।
এছাড়া যারা গেল ১৫ বছরে বিভিন্ন সময়ে শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বা কমানোর পেছনে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল তারা হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে বের হয়ে যেতে চাইছে। যার ফলে সকালের শুরুটা ভালো হলেও দিনশেষে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব চলমান রয়েছে।
তবে কমিশনকে বিতর্ক করতে এক শ্রেণীর বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। সকালে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে বেলা শেষে তাদের হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হচ্ছে। প্রথমত: নিজেরা লাভবান হচ্ছে, দ্বিতীয়ত: টানা পতনে বিএসইসিকে বিতর্কিত করছে। যতদূর জানা যায়, কমিশনের গঠিত তদন্ত কমিটি নিরপেক্ষ ও কাউকে ছাড় না দেওয়া মন মানসিকতায় কাজ করে যাচ্ছে। টেবিলের নিচে ম্যানেজ করা তাদেরকে সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে বড় নেতা, পাতি নেতা শেয়ারবাজারের সব নেতারাই রয়েছেন আতঙ্কে। ইতিমধ্যে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে জড়িতদের নাম প্রকাশিত হয়েছে। সামনে আরও হবে। একসময় যারা বেক্সিমকো কোম্পানির নামই মুখে আনতে কাঁপতো।
আজ সেই বেক্সিমকোই পালিয়ে বেড়াচ্ছে। কিন্তু বিপত্তি ঠেকেছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি নিয়ে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগকারীদের এ কোম্পানিতে আটকে রয়েছে। তাই তৃতীয় কোন পক্ষ যদি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভালোভাবে পরিচালনা করে তাহলে হয়তো বিনিয়োগকারীরা একটু স্বস্তিতে থাকতে পারবেন।
বর্তমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা সম্পূর্ণ মার-মার কাট-কাট ভঙ্গিমায় কাজ করছেন। সেটি ভবিষ্যত পুঁজিবাজারের জন্য মঙ্গল হলেও বিনিয়োগকারীরা পথে বসে যাবেন। কারণ হুটহাট সিদ্ধান্ত আর তড়িগড়ি করলে সামগ্রিক পুঁজিবাজারে শেয়ারের যে দরপতন হবে তার লোড নিতে পারবেন না বিনিয়োগকারীরা। তাই এই বাজারকে ঠিক করতে হলে যারা সন্দেহের টার্গেট পারসন তাদের প্রত্যেকের শেয়ার বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি অথবা বিও ফ্রিজ করতে হবে। প্রয়োজনে শেয়ারবাজার বন্ধ রেখে তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। কিন্তু একদিকে শেয়ারবাজারে ধস, অন্যদিকে বিচার, মাঝখানে বিনিয়োগকারীরা পথের ফকির-এমনটা যেন না হয়।


