শেয়ারবাজারে বড় বিনিয়োগকারীদের মুনাফার তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এ সিদ্ধান্তে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ প্রশমিত হবে এবং আস্থাও ধীরে ধীরে ফিরতে শুরু করবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় এটি একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি মূলধনি মুনাফা অর্জনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) বৃহস্পতিবার সকালে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে বিনিয়োগকারীদের তালিকা পাঠানোর জন্য নির্দেশনা পাঠালেও বিকেলেই নতুন বার্তা দিয়ে পূর্বের নির্দেশনা স্থগিত করে দেয়। অন্যদিকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রথম থেকেই সতর্ক অবস্থান নেয়। তারা জানায়, এমন সংবেদনশীল তথ্য ব্রোকারদের কাছে পাঠানো হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা শেষ হয়। ডিএসই কর্মকর্তাদের মতে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা রক্ষা করাই বাজারের মূল চালিকাশক্তি।
উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট অনুযায়ী শেয়ারবাজার থেকে ৫০ লাখ টাকার বেশি মূলধনি মুনাফা অর্জনকারীদের কর পরিশোধ করতে হয়। এই কর যথাযথভাবে আদায় হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে গত ২৫ আগস্ট জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিএসইসিকে একটি চিঠি পাঠায়। সেই প্রেক্ষিতেই বিএসইসি ডিএসই ও সিএসইর কাছে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়।
ব্রোকারেজ হাউসগুলোর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, সকালে তারা সিএসইর নির্দেশনা পেলেও বিকেলের বার্তায় তথ্য পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা বাতিল করা হয়। এতে বিনিয়োগকারীদের স্বস্তি ফিরে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, তথ্য সংগ্রহের চিঠি প্রকাশ পাওয়ার পর টানা দুই কার্যদিবস শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। তবে এই প্রক্রিয়া স্থগিত হওয়ায় পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত সহায়ক ভূমিকা রাখবে।


