নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন থেকে সব তফসিলি ব্যাংককে একটি নিবেদিত রেজোলিউশন কো-অর্ডিনেশন ইউনিট (আরসিইউ) বা ঝুঁকি-পর্যবেক্ষণ সেল গঠন করতে হবে। এই নতুন ইউনিট প্রতিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি সূচকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং সম্ভাব্য আর্থিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিশ্চিত করবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জন্য এটি একটি ‘একক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র’ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে মূলধন পর্যাপ্ততা, তারল্য, সম্পদের গুণগত মান, বৃহৎ ঋণ প্রদানের ঝুঁকি সূচক সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। মূল লক্ষ্য হলো— ব্যাংকের আর্থিক দুর্বলতার প্রাথমিক লক্ষণগুলো দ্রুত সনাক্ত করে প্রয়োজনীয় পুনর্গঠন বা রেজোলিউশন পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ও প্রক্রিয়া
বাংলাদেশ ব্যাংক ২৩ অক্টোবর ‘ব্যাংক রেজোলিউশন রেগুলেশনস, ২০২৫’ জারি করেছে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও পুনর্গঠনের জন্য তৈরি। এই প্রবিধান ব্যাংক রেজোলিউশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫-এর কার্যকর রূপ হিসেবে তৈরি, যা ৬ অক্টোবর পরিচালনা পর্ষদের সভায় অনুমোদিত হয়।
মূল নির্দেশনা ও শাস্তির বিধান:
আরসিইউ গঠন: প্রতিটি ব্যাংকে একজন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) নেতৃত্বে রেজোলিউশন কো-অর্ডিনেশন ইউনিট (আরসিইউ) গঠন বাধ্যতামূলক।
বিআরডি অনুমোদন: বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই বা সাংগঠনিক পরিবর্তনের আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের রেজোলিউশন ডিপার্টমেন্টের (বিআরডি) অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক।
জরিমানা ও ডিভিডেন্ড নিষেধাজ্ঞা: ঘাটতি পূরণে ব্যর্থ ব্যাংকগুলোর ওপর জরিমানা, ডিভিডেন্ড নিষেধাজ্ঞা বা কাঠামোগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আমানতকারীর সুরক্ষা:
প্রবিধানে অকার্যকর ব্যাংকের ক্ষেত্রে রেজোলিউশনের সময় আমানত বীমা তহবিল থেকে অর্থ প্রদান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকিং পরিষেবা চালু রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিআরডি ব্যাংকের মূলধন, তারল্য, সম্পদের মান ও দায় পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে রেজোলিউশনের সিদ্ধান্ত নেবে এবং প্রয়োজনে প্রশাসক নিয়োগ করবে।
নতুন রেজোলিউশন টুলস:
‘পারচেজ অ্যান্ড অ্যাসাম্পশন’, ‘ব্রিজ ব্যাংক’, ‘বেইল-ইন’ এবং সম্পদ স্থানান্তর ব্যবস্থার মতো নতুন টুলস যুক্ত করা হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে সমস্ত ধাপে শরিয়াহ্-সম্মতি বজায় রাখতে বিআরডি একটি শরিয়াহ্ উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করবে।
মোটকথা, ‘ব্যাংক রেজোলিউশন রেগুলেশনস, ২০২৫’ দেশের প্রথম আনুষ্ঠানিক ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো হিসেবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে এবং সুশৃঙ্খল ও আমানতকারী-কেন্দ্রিক সংকট ব্যবস্থাপনা কাঠামো তৈরি করবে।


