নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশের অন্যতম লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল)। সরকারের নির্দেশনায় রাষ্ট্রীয় মুনাফাকারী কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কাছে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে।
গত ২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার ডিএসই’র চেয়ারম্যান ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর আগেও, ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি একটি ৪০০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (পূর্ব) বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে অর্থ সংগ্রহ করতে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা তুলেছিল, যা তাদের আর্থিক নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ডিএসই’র চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম জানান, আশুগঞ্জ পাওয়ার ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির আসন্ন বোর্ড সভায় তালিকাভুক্তির প্রস্তাব তোলা হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, “এই কোম্পানির আর্থিক ভিত্তি খুবই মজবুত এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে লাভজনকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। আমরা তাদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”
এই উদ্যোগ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নির্দেশনার বাস্তবায়নের অংশ। ২০২৫ সালের মে মাসে শীর্ষ শেয়ারবাজার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে তিনি লাভজনক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে তালিকাভুক্ত করার নির্দেশ দেন।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) আওতাধীন প্রতিষ্ঠান আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ করে আসছে। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৩৭২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ১৩৭ কোটি ২৬ লাখ শেয়ারে বিভক্ত। এর মধ্যে বিপিডিবির মালিকানা রয়েছে ৯১.০১ শতাংশ (১২৪ কোটি ৯২ লাখ শেয়ার) এবং বিদ্যুৎ বিভাগের মালিকানা ৮.৯৮ শতাংশ (১২ কোটি ৩১ লাখ শেয়ার)।
১৯৬৬ সালে যাত্রা শুরু করা আশুগঞ্জ পাওয়ার ১৯৭০ সালে প্রথম দুটি ইউনিট চালু করে এবং পরবর্তী সময়ে গ্যাস ও স্টিম টারবাইন সংযোজনের মাধ্যমে বর্তমানে ১ হাজার ৬৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতায় পৌঁছেছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় গ্রিডে ৭ হাজার ৫৭১ মিলিয়ন কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৯.৩৯ শতাংশ বেশি। এ সময়ের মধ্যে নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৪৮৯ কোটি টাকায় এবং শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) ছিল ৩ টাকা ৫৭ পয়সা। আগের বছর একই সময়ের তুলনায় মুনাফা ছিল ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং EPS ছিল ১ টাকা ৭৮ পয়সা, অর্থাৎ মুনাফা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।
এছাড়া ২০২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধেও (জুলাই-ডিসেম্বর) এই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এ সময়ে নিট মুনাফা ২০ শতাংশ বেড়ে ৩২১ কোটি ৭৪ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং EPS হয়েছে ২ টাকা ৩৪ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময়ের আয় ছিল ২৬৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ও EPS ছিল ১ টাকা ৯৬ পয়সা। একইসঙ্গে রাজস্ব বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ২৬৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
শেয়ারবাজারে অংশগ্রহণের পথে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশনের এই অগ্রগতি বাজারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


