শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানিতে আওয়ামী গন্ধ রয়েছে সেগুলোর শেয়ারে ব্যাপক সেল প্রেসার চলছে। এছাড়া কারসাজির সঙ্গে জড়িত শেয়ারগুলোতে দরপতন চোখে পড়ার মতো। এছাড়া যেসব কোম্পানিতে বিএনপিপন্থী মালিক রয়েছেন সেগুলোর শেয়ার দর হু হু করে বাড়ছে। এই দলীয় আতঙ্কে পড়ে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের ঘানি টানা বিনিয়োগকারীরা আরও লোকসানে পড়ে যাচ্ছেন। অথচ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হওয়া উচিত কোম্পানির শক্তিশালী ভীত দেখে। এখনই সময় ফান্ডামেন্টাল শেয়ার এবং বন্ধ কোম্পানি থেকে যেগুলো বের হয়ে এসেছে সেগুলোতে বিনিয়োগ করা।
বেক্সিমকো গ্রুপের কর্ণধার সালমান এফ রহমান হওয়ায় কিংবা ওরিয়ন গ্রুপ আওয়ামী পন্থী হওয়ায় এগুলোর শেয়ার দরে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এছাড়া অন্যান্য আওয়ামীপন্থী কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও রয়েছে নেতিবাচক প্রভাব। অথচ এসব শেয়ারে যেসব বিনিয়োগকারী জড়িত রয়েছেন তারা সবাই কোন দলের কিংবা কেউ কোন দলেরও নয়। তাদের পরিচয় শুধুমাত্র বিনিয়োগকারী। বিগত ১৬ বছরে এ বাজারে একই হাউজে পাশাপাশি বসে আওয়ামী কিংবা বিএনপিপন্থী মানুষেরা একসঙ্গে শেয়ার ব্যবসা করেছেন
। এমনকি শেয়ার কারসাজিতেও রয়েছে এক জোট। যে যেই দলেরই হোক না কেন সবাই বিনিয়োগ করেছে নিজেদের সঞ্চিত পুঁজি। তবে হ্যা, কারো কারো যুক্তি হচ্ছে যেহেতু আওয়ামী পন্থীরা যে যার মতো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তাই এসব কোম্পানির ভবিষ্যত খারাপ হতে পারে। সেজন্য এসব শেয়ারে সেল প্রেসার অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু পাবলিক কোম্পানি কি কোন ব্যক্তির নিজস্ব সম্পত্তি যে চাইলেই শেষ করে দেওয়া যাবে? লাখ লাখ মানুষ এসব কোম্পানিতে কাজ করে জীবিকা নর্িাহ করছেন।
কোম্পানি বন্ধ কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণেরই ক্ষতি তথা দেশের ক্ষতি। প্রয়োজনে কোম্পানির বোর্ চেঞ্জ করা হবে। কোম্পানিকে আবারও ঢেলে সাজানো হবে। মনে রাখতে হবে, সরকার যেই হোক সবার সঙ্গেই ব্যবসায়ীরা আঁতাত করে চলেন। কারণ সরকারের সহযোগিতা ছাড়া ব্যবসায়ীরা যেমন চলতে পারে না। তেমনি ব্যবসায়ীদের ছাড়াও সরকার চলতে পারে না। বিগত সরকারের আমলে এফবিসিসিআইয়ের বহু কোম্পানির মালিকপক্ষ সরকার পক্ষের ছিল না। কিন্তু তারা ঠিকই আঁতাত করে ব্যবসা করে গেছেন। তেমনি বিদ্যমান তালিকাভুক্ত আওয়ামীপন্থী কোম্পানিগুলোও যে সরকারই আসুক তাদের সঙ্গে আঁতাত করে ব্যবসা করে যাবেন। এটাই বাস্তব।
এর আগে ইসলামী ব্যাংককে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত আখ্যা দিয়ে পরিচালকদের পাল্টানো হয়েছে। কিন্তু ব্যাংকের কি কোন ক্ষতি হয়েছে? ব্যাংক তার ব্যবসা ঠিকই করে গেছে। তেমনি সামনে প্রয়োজন হলে পরিচালকদের পাল্টানো হতে পারে কিংবা নাও হতে পারে, কোম্পানি তার ব্যবসা ঠিকই করে যাবে। তাই শেয়ারবাজারে দলীয় আতঙ্ক দূর হোক। এই বাজার আপনার, আমার, সবার। যদি সকলেই শেয়ারবাজার উন্নয়নে কাজ করি তাহলে শিগগিরই এই বাজার উন্নত দেশের পুঁজিবাজারে পরিণত হবে। শেয়ারবাজার হোক বিনিয়োগকারীর, কোন দলের না।


