দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা ১১ মধ্যস্থতাকারীর পরিকল্পনা জানতে চায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা

সময়: শনিবার, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬ ১১:২৭:৪১ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে দীর্ঘ সময় ধরে লোকসান, লেনদেন স্থবিরতা এবং আর্থিক চাপে থাকা ১১টি বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ভবিষ্যৎ ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা বা বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান (BCP) দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজ অ্যাফেয়ার্স বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক লোকসান ও কার্যক্রমে স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তাদের ভবিষ্যৎ করণীয় জানতে চেয়েছে।

নির্দেশনার আওতায় থাকা ১১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৬টি ব্রোকারেজ হাউজ, ৪টি মার্চেন্ট ব্যাংক এবং ১টি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি। ব্রোকারেজ হাউজগুলো হলো— প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টক অ্যান্ড বন্ডস লিমিটেড, পিএফআই সিকিউরিটিজ লিমিটেড, আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ লিমিটেড।

এছাড়া চিঠির তালিকায় থাকা মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো হলো— আইএল ক্যাপিটাল লিমিটেড, পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড এবং এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। পাশাপাশি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড।

জানা গেছে, এর আগেও গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর বিএসইসি বেশ কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে একই ধরনের ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা চেয়ে চিঠি দিয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরও একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় নথিপত্র দাখিল না করায় বিষয়টি কমিশনের উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠে। এ পরিস্থিতিতে পুনরায় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সাবসিডিয়ারি ও অ্যাসোসিয়েট প্রতিষ্ঠানকে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই সভার কার্যবিবরণী ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেনি।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলার প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে বিজনেস কন্টিনিউটি প্ল্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দলিল। বিশেষ করে শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এ ধরনের পরিকল্পনার ঘাটতি বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও বাজার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এ কারণে চিঠি জারির তারিখ থেকে পরবর্তী সাত কার্যদিবসের মধ্যে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র কমিশনে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ভবিষ্যতে প্রশাসনিক বা বিধিগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে বিএসইসি।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার নজরদারি কার্যক্রম জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে বাজার মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ারবাজার পরিচালনায় ব্রোকারেজ হাউজ, মার্চেন্ট ব্যাংক ও অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বিনিয়োগকারী আস্থা ও সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার ওপর। এ কারণেই এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে বিএসইসি বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।

Share
নিউজটি ২ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged