শেয়ারবাজারে কারসাজি ও অর্থ আত্মসাতে কারসাজি চক্রের সদস্যদের চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দাখিল করেছে পুঁলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম, সাবেক কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ, বর্তমান বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান নাম উঠে এসেছে।
তাদের ছাড়াও বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব-উর-রহমান, সরকারি সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল খায়ের হিরু, তার প্রতিষ্ঠান ডিআইটি কো-অপারেটিভ, হিরুর বাবা আবুল কালাম মাদবর, আলোচিত কারসাজি কারক আব্দুল কাইয়ুম, হিরুর প্রতিষ্ঠান মোনার্ক হোল্ডিংস, ক্রিকেটার ও সাবেক সংসদ-সদস্য সাকিব আল হাসান, বহু বিতর্কিত ও যুক্তরাষ্ট্রে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকা নিষিদ্ধ ব্যবসায়ী জাবেদ এ মতিন এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক প্রেসিডেন্ট সায়েদুর রহমানের নাম উঠে এসেছে। যদিও শেয়ারবাজার কারসাজিতে জড়িতে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আরও অনেক সাঙ্গপাঙ্গ করেছেন। তারা থেকে গেছে আড়াইলেই।
তবে সুষ্ঠু তদন্ত করে সিডিবিএলের সহায়তায় আরও অনেক ব্যক্তির নাম উঠে আসবে। তবে যার নামই উঠে আসুক তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার পতনের পর শেয়ারবাজারের চিত্র মুহূর্তেই পাল্টে যায়। ২০০ কোটি টাকার লেনদেন ২ হাজার কোটিতে উন্নীত হয়। কিন্তু আবারও অদৃশ্য চক্রের হাত ধরে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে। যেসব শেয়ার কারসাজি করে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি করা হয়েছিল সেগুলোতে মাত্রাতিরিক্ত সেল প্রেসার তৈরি হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে সেসব শেয়ার থেকে নিজেদের লাভসহ পুঁজি বের করে নিচ্ছে কারসাজি চক্র।
ক্রিষ্টাল ইন্স্যুরেন্স, সোনালী পেপার, এমারেল্ড ওয়েল, ফরচুন সুজ, সালভো কেমিক্যালসহ বেশকিছু কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিন যত যাচ্ছে ততই শেয়ার বিক্রি করে বের হওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেকে শেয়ার বিক্রি করে সেফ জোনে অবস্থান নিয়েছেন।
তাই বর্তমান সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের সকল বিও হিসাব, ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে হবে। তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।


