সূচক কমলেও বেড়েছে লেনদেন

ধারাবাহিক দরপতনে হতাশ না হয়ে বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শ

সময়: মঙ্গলবার, মে ২৭, ২০২৫ ৭:১৯:৪৬ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা দরপতনের ধাক্কা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। চলতি সপ্তাহের চার কার্যদিবস ধরেই সূচকের পতন অব্যাহত রয়েছে। বাজার উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের বৈঠক ও নানা পদক্ষেপেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরছে না। এ অবস্থায় অধিকাংশ শেয়ারদর নিম্নমুখী হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা পড়েছেন বড় ধরনের লোকসানে। অনেক বিশ্লেষক বলছেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ আছে।

তবে আশার আলো দেখছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করছেন নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে। এ কারণে বাজারে অতিরিক্ত বিক্রির চাপ তৈরি হওয়ায় সূচক নিম্নমুখী। তবে ঈদের পর বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন তারা। তাই হতাশ না হয়ে, ধৈর্য ও কৌশল নিয়ে বিনিয়োগ ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

২৭ মে, সোমবার:
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক ও লেনদেন উভয়ই কমেছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১.২৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৬৭৮.১৩ পয়েন্টে।
ডিএসইএস সূচক ৮.৮৮ পয়েন্ট কমে নেমে এসেছে ১,০২৪.৪৩ পয়েন্টে, এবং
ডিএসই-৩০ সূচক ১৭.৭৩ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১,৭২৪.১৭ পয়েন্টে।

ডিএসইতে এদিন মোট ৩৯২টি কোম্পানি লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ৮৩টির শেয়ারদর বেড়েছে, ২৩৭টির কমেছে, এবং ৭২টির দর অপরিবর্তিত ছিল।

লেনদেনের পরিমাণেও পতন দেখা গেছে। ডিএসইতে মোট ২৭২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ৯ কোটি ৮৭ লাখ টাকা কম। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৮২ কোটি ৬১ লাখ টাকার।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-তেও দুর্বল পারফরম্যান্স দেখা গেছে। সিএসইতে এদিন মোট ১০ কোটি ১১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের ১১ কোটি ১৩ লাখ টাকার তুলনায় কম।

সিএসইতে ২০৭টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টির, কমেছে ১১৪টির, এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৫টির।

এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৫৮.৮২ পয়েন্ট কমে ১৩,১৫৫.৪২ পয়েন্টে নেমে আসে। আগের দিন সূচক কমেছিল ৫২.৭৯ পয়েন্ট।

বাজার বিশ্লেষকদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের এখনই ভয় না পেয়ে ধৈর্য ধরতে হবে। অপ্রয়োজনে লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পর্যন্ত অপেক্ষা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তারা আরও বলেন, মৌলভিত্তি ভালো শেয়ার বাছাই করে দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিনিয়োগ করলেই ভবিষ্যতে সুফল মিলবে।

Share
নিউজটি ২০৫ বার পড়া হয়েছে ।
Tagged